ISL: অপ্রতিরোধ্য ম্যাকলারেনের ৪, যুবভারতীতে ফাইভস্টার মোহনবাগান!

এইবছর লিগ অন্যরকম। প্রতি দল খেলার সুযোগ পাবে ১৩টি ম্যাচ। সেখানে ৪ ম্যাচে ৪ জিতেই ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানে আরও জাঁকিয়ে বসল মোহনবাগান। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জামশেদপুর। আজ জিতলেও গোলপার্থক্যে একেই থাকবে বাগান।

ISL: অপ্রতিরোধ্য ম্যাকলারেনের ৪, যুবভারতীতে ফাইভস্টার মোহনবাগান!
Image Credit source: Facebook/Mohun Bagan Super Giant

| Edited By: Moumita Das

Mar 06, 2026 | 8:22 PM

মোহনবাগান সুপারজায়েন্ট৫ (ম্যাকলারেন ৪, আলবার্তো)
ওড়িশা এফসি১ (রহিম)

কলকাতা : আইএসএলে থামানো যাচ্ছে না মোহনবাগানকে। দুরন্ত ফর্মে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। আজ যুবভারতীতে ওড়িশাকে ৫-১ উড়িয়ে দিল সের্জিও লোবেরার ছেলেরা। হ্যাটট্রিকসহ মোট ৪ গোল করলেন জেমি ম্যাকলারেন। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনিই। ৪ ম্যাচে ৪টিতেই জিতে ১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শীর্ষে সবুজ-মেরুন। আইএসএল শুরুর কয়েক দিন আগেও ঠিক ছিল না ওড়িশা আইএসএল খেলবে কি না। সব দলের শেষে প্রস্তুতি শুরু করেছিল ওড়িশা। আজকের ম্যাচের আগে ওড়িশার দুই ড্র, এক হার। আজ অর্ধেক স্টেডিয়ামে মোহনবাগান রীতিমতো উড়িয়ে দিল ওড়িশাকে।

ম্যাচের শুরু থেকেই খেলার দখল নিয়ে নেয় বাগান। আজ শুরু থেকেই খেলছিলেন জেসন কামিংস। বাঁদিক থেকে দিমিত্রির ব্যাকহিল পেয়ে শুভাশিস ক্রস তোলেন পোস্টে। বলে মাথা ছুইঁয়ে ১৪ মিনিটেই প্রথম গোল করেন ম্যাকলারেন। ২৩ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করেন মেক্কা। লিস্টনের নিখুঁত পাস থেকে বল জালে জড়িয়ে দেন অজি স্ট্রাইকার। এরপর থেকেই যেন ছন্দ হারাতে শুরু করে ওড়িশা। ক্রমশ ডিফেন্সিভ খেলা বিপদ ডেকে আনে ওড়িশা বক্সে। এরই সুযোগ নেয় মোহনবাগান। আক্রমণের ঝড় তোলেন দিমি -কামিংসরা। ৪২ মিনিটে তৃতীয় গোল করেন আলবার্তো রদ্রিগেজ। গত সিজনের মতোই এবারেও একার দমে গোল করলেন। সম্পূর্ণ ফাঁকা থাকায় তাঁর জোরালো শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করায় বোকা বনে যান গোলরক্ষক অমরিন্দর। ওড়িশার রহিম আলির তারিফ করতেই হয়। ৪৩ মিনিটেই বিশালকে এগিয়ে আসতে দেখে তাঁকে নির্ভুলভাবে কাটিয়ে গোল করে যান এই বঙ্গসন্তান । প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ৪-১ এ এগিয়ে যায় মোহনবাগান। লিস্টনের ক্রস থেকে দুর্দান্ত গোল করেন ম্যাকলারেন। দ্বিতীয়ার্ধেও বাগানেরই ঝাঁঝ থাকে মাঠ জুড়ে। তবুও যে গোল আসেনি, তার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব ওড়িশার ডিফেন্ডারদের। দিমি ও কামিংসের বদলে নামেন সাহাল আব্দুল সামাদ ও মনবীর। ৮৭ মিনিটে পঞ্চম গোল করে নিজের গোল সংখ্যা চারে পৌঁছিয়ে দেন ম্যাকলারেন। কিছু মুহূর্ত আগেই রহিম আলি একইভাবে বিশালকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি। ২টো পেনাল্টি পেতে পারত মোহনবাগান। বক্সের মধ্যেই দিমিত্রির শট হাতে লাগে ওড়িশা ডিফেন্ডারের। দ্বিতীয় বার ম্যাকলারেনকে বক্সে ফেলে দেন জুইডিকা ছাকচুয়াক। দুই ক্ষেত্রেই পেনাল্টি দেননি রেফারি। এই দুই পেনাল্টি পেলে ও দুই পেনাল্টি থেকেই দুই গোল হলে যুবভারতীর সবুজে বেলো হরাইজন্তের ব্রাজিলিয়ান শোক ফিরিয়ে আনত বাগানের খেলোয়াড়রা। ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ব্রাজিলকে ৭-১ এ ধ্বংস করে দিয়েছিল জার্মানি। গোটা ব্রাজিল যেন শ্মশানে পরিণত হয়েছিল। আজ ৭ গোল করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হল মোহনবাগান।

এইবছর লিগ অন্যরকম। প্রতি দল খেলার সুযোগ পাবে ১৩টি ম্যাচ। সেখানে ৪ ম্যাচে ৪ জিতেই ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানে আরও জাঁকিয়ে বসল মোহনবাগান। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জামশেদপুর। আজ জিতলেও গোলপার্থক্যে একেই থাকবে বাগান। বাগানের সাফল্যের মূল কারণ, তাদের ব্যালান্সড দল। দিমি বা লিস্টন, মেক্কা বা কামিংস – কেউ না কেউ ঠিক জিতিয়ে দিচ্ছেন বাগানকে। তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল ধীরে ধীরে যেন তলিয়ে যাচ্ছে হতাশায়। কিছুই ক্লিক করছে না লাল হলুদের। ৪ ম্যাচে মাত্র ৭ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে অস্কার ব্রুজোর ছেলেরা। একদিকে মোহনবাগান চ্যাম্পিয়নশিপে এক পা এক পা করে অগ্রসর হচ্ছে খেতাব ধরে রাখতে, উল্টোদিকে ইস্টবেঙ্গল জুড়ে যেন শুধুই আঁধার।

Follow Us