
কলকাতা : বাকি আর মাত্র ১ দিন, তারপরেই যুবভারতীর মাঠে খেলতে দেখা যাবে ২ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল উরুগুয়েকে। দিন দুয়েক আগে এই মাঠেই খেলে গিয়েছে ব্রাজিল, এবার খেলবে উরুগুয়েও। ফলে, একই সপ্তাহের মধ্যে দুই বিশ্বসেরা ফুটবল দল ও ফুটবলারদের দেখার সুযোগ পাচ্ছে কলকাতার ফুটবলপ্রেমীরা।
তবে এখানেই আছে একটি ছোট্ট ট্যুইস্ট। দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে অর্থনৈতিক পার্থক্য প্রচুর। যেমন ধরা যাক, উরুগুয়ের সেন্টার ব্যাক জোসে গিমেনেজ। তিনি খেলেন স্প্যানিশ ক্লাব অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে। ক্লাবের হয়ে প্রায় ১০০ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন তিনি। তাঁর ক্লাবের ঘরের মাঠে সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ৫০ ইউরো (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫৪০০ টাকা)। কিন্তু তাঁর মার্কেট ভ্যালু শুনবেন? ভারতীয় মুদ্রায় ৬৬ কোটি টাকা। গত বছর, আইএসএলে মোহনবাগান ক্লাবের গোটা দলের ভ্যালু ছিল এর থেকে ১ কোটি টাকা কম। বা ধরুন, লিভারপুলের তারকা ডিফেন্ডার রোনাল্ড আরায়ুহো – তাঁর ক্লাবের মাঠ অ্যানফিল্ড স্টেডিয়ামে সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ৩০ ইউরো (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৩০০ টাকা)। তাঁর নিজের মার্কেট ভ্যালু, ২২০ কোটি। দলের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার রদ্রিগো বেনতাংকুর খেলেন ইংল্যান্ডের ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পারে। তাঁর ক্লাবেরও ঘরের মাঠের টিকিটের সর্বনিম্ন দাম ৩০ ইউরোর কিছু বেশি। অর্থাৎ, এই সব তারকাদের দেখতে আপনাকে খরচ করতে হবে প্রায় ৫ হাজার টাকার মতো, সেটাও সর্বনিম্ন দামে। সেখানেই আগামীকাল কলকাতায় আসা উরুগুয়ে দলের টিকিটের সর্বনিম্ন দাম ১৯৯ টাকা। আজ বহু সমর্থককে ফ্রিতেও টিকিট দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফ থেকে।
দুই দলের এই তফাৎই বুঝিয়ে দিচ্ছে কোথায় কত এগিয়ে উরুগুয়ের দল। কেন আজ তাদের এই সাফল্য। যদিও এই ম্যাচে খেলতে আসছেন না রিয়াল মাদ্রিদের অধিনায়ক ভালভের্দে। কিন্তু একটাই আক্ষেপ, এই ম্যাচ নিয়ে সেই অর্থে কোনও উচ্ছ্বাস নেই সমর্থকদের মধ্যে। যতই হোক, উরুগুয়ে ২ বারের বিশ্বকাপজয়ী দল। তবুও আশা করা যায়, যাদের দেখতে প্রায় ১০ হাজার টাকা লাগে ক্লাবের জার্সিতে দেখতে, তাদের কেউ কেউ বিনামূল্যেও দেখতে পারবেন। আগামীকাল মাঠ ভরবে, এটুকু তো আশা করাই যায়।