ISL 2026, Mohunbagan: ইনস্টাগ্রামে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট, মরশুম শেষেই বাগান ছাড়বেন ‘গড’?

Dimitri Petratos: অতীতেও বহু খেলোয়াড় এসে বাগানের নয়নের মণি হয়ে উঠেছিলেন। ব্যারেটো থেকে সনি, পড়ন্ত মরশুমের ওডাফা ওকোলি, সাম্প্রতিক সময়ের দিমি - সবাই মাঠে নেমেছেন, যুবভারতী মাতিয়ে দিয়ে গেছেন নিজেদের পায়ের জাদুতে। সাধারণ খেলোয়াড় থেকে 'ভগবান' হয়ে ওঠার রাস্তা তো খুব একটা সহজ নয়। অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে এই রাস্তা দিয়ে হাঁটার সুযোগ পাওয়া যায়।

ISL 2026, Mohunbagan: ইনস্টাগ্রামে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট, মরশুম শেষেই বাগান ছাড়বেন গড?
Is Dimitri Petratos Leaving Mohun Bagan Super Giant?Image Credit source: Getty Images

| Edited By: Moumita Das

May 19, 2026 | 5:25 PM

কলকাতা : অতীতেও এই ঘটনা বহুবার ঘটেছে। নিজের পছন্দের খেলোয়াড়ের জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করেছেন সমৰ্থকরা। সন্ধ্যে গড়িয়ে রাত, মধ্যরাত – সময় যত পেরিয়েছে, তত অপেক্ষাও বেড়েছে। তারপর সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এসেছে – যখন অপেক্ষার পর দেখা গিয়েছে পছন্দের খেলোয়াড়ের। মধ্যরাতেই বিমাবন্দরে উৎসবের এই দৃশ্য আগে দেখেছে ময়দান (Kolkata Maidan)। সেই উৎসবেই সাম্প্রতিক উদাহরণ দিমিত্রি পেত্রাতোস (Dimitri Petratos)। যতবার তিনি অস্ট্রেলিয়া (Australia) থেকে দেশে এসেছেন, ততবার তাঁকে নিয়ে উৎসবে মেতে উঠেছে মোহন জনতা। এছাড়াও তো আরও অনেক কিছুই ঘটেছে। ডার্বিতে গোল করে সেই পুরোনো ‘স্টেন গান’ সেলিব্রেশন, দর্শকদের দিকে ফিরে হুঙ্কার দেওয়া – কি না করেননি দিমি? তবে তাঁর সাম্প্রতিক সময়ে ফর্ম দেখে বহুদিন ধরেই জল্পনা বাড়ছিল, কবে বাগান (Mohunbagan Supergiant) ছাড়বেন দিমি। আজ তিনি নিজেই হয়ত উত্তর দিয়ে দিলেন।

নিজের ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট করেছেন বাগান সমর্থকদের ‘দিমি গড’। সেখানে নিজের ছবি দিয়ে লেখা ‘দ্য লাস্ট ডান্স’, যার অর্থ ‘শেষ নাচ’। যার ছবি দেখে প্রশ্ন উঠতেই পারে, তাহলে কি এবার বাগান ছাড়ছেন দিমিত্রি? শেষ দুই সিজনে সেইভাবে ফর্মে নেই, ক্রমাগত ট্রোলের মুখোমুখি হচ্ছেন, গোল আসছে না – ফলে এবার কী বাগান থেকে বিদায় নেবেন দিমি? সেই বিষয়েই প্রশ্ন উঠছে।

 

২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়া থেকে মোহনবাগানে এসেছিলেন দিমি। ৪ সিজনে মোট গোল করেছেন প্রায় ৩০টি। খেলেছেন ৮৬টি ম্যাচ। ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধেও বেশ সফল দিমি। আইএসএল ছাড়াও ডুরান্ড কাপ মিলিয়ে লাল-হলুদের বিরুদ্ধে ৫ গোল করেছেন দিমি। অ্যাসিস্ট ৪টি। লাল-হলুদের বিরুদ্ধে পেনাল্টিতেও উজ্জ্বল তাঁর পারফরম্যান্স।

কিন্তু শেষ দুই সিজনে অনেক অঙ্ক বদলে গেছে। গত সিজনে গ্রেগ স্টুয়ার্টের চোটের সময়ে গোটা মাঠ জুড়ে খেলেছেন দিমি, যার প্রভাব পড়েছিল তাঁর নিজের খেলাতেও। এবং অতি বড় বাগান সমর্থকও বলবেন, ২০২৩-২৪ মরশুমে তাঁর জন্যই ফাইনাল খেলেছিল মোহনবাগান। এরপর থেকেই একপ্রকার কোথাও যেন ফর্ম পড়ে যায় তাঁর। এই সিজনেও চোট-আঘাতে ভোগার ফলে ম্যাচফিট হয়ে পড়েন দিমি, যেখান থেকে সমর্থকদের বিষোদ্গার তাঁর দিকে আসা শুরু হয়। বিগত কয়েকদিন ধরেই দিমিকে সরে যেতে বলছিলেন সমর্থকরা। তবে আর কয়েকদিন পরে হয়ত এই ঘটনাই ঘটতে চলেছে।

অতীতেও বহু খেলোয়াড় এসে বাগানের নয়নের মণি হয়ে উঠেছিলেন। ব্যারেটো থেকে সোনি, পড়ন্ত মরশুমের ওডাফা ওকোলি, সাম্প্রতিক সময়ের দিমি – সবাই মাঠে নেমেছেন, যুবভারতী মাতিয়ে দিয়ে গেছেন নিজেদের পায়ের জাদুতে। সাধারণ খেলোয়াড় থেকে ‘ভগবান’ হয়ে ওঠার রাস্তা তো খুব একটা সহজ নয়। অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে এই রাস্তা দিয়ে হাঁটার সুযোগ পাওয়া যায়। দিমি সেই সুযোগ পেয়েছেন। খুব সম্ভবত, এই সিজনের পর দিমিও থাকবেন না। জাস্ট ভাবার চেষ্টা করছি, কোনও এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মোহনবাগান ১-০ হারছে, কোনও এক বাগান সমর্থক কি আশা করবেন, কোনও এক দিমি পেত্রাতোস ঠিক গোল করে বাগানকে ম্যাচে ফেরাবেন? কোনও এক দিমি ঠিক আবার গোল করে ছুটে আসবেন গ্যালারির দিকে, দেখাবেন সেই পরিচিত ‘স্টেনগান’ সেলিব্রেশন? যুগ কি এভাবেই ফুরোয়?

Follow Us