
বেজিং: চীনের প্রাক্তন রাষ্ট্রনেতা মাও সে তুংকে নিয়ে রসিকতা করে মহা বিপাকে পড়েছেন ফরাসি ফুটবল তারকা কিলিয়ান এমবাপে। তাঁর একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়াতে ভাইরাল হওয়ার পর চিনের একাধিক বড় সংস্থা তাঁর সঙ্গে যাবতীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি, স্পেনের ফুটবল লিগ লা লিগার ম্যাচ চিনে দেখানো বন্ধ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে চিনের সংবাদমাধ্যম।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের সময় থেকেই ইন্টারনেটে বিখ্যাত একটি মিম, ‘কিলিয়ান ডিক্টেটর’। যেখানে চিনের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মাও-এর মুখে এমবাপের মুখ বসানো হয়েছে। এই মিম নিয়ে সম্প্রতি এমবাপেকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন,“আমি জানি না উনি কে। মনে হয়, চিনের কোনও ডিক্টেটর।” এরপরেই শুরু ঝামেলা। তাঁর এই মন্তব্যে চিনের জাতীয় স্বার্থে আঘাত লেগেছে বলে বিদ্রোহ শুরু করেন চিনারা। তাঁদের প্রশ্ন, কেন মাও এর মুখ বদলে এমবাপের মুখ ব্যবহার করা হবে? সবকিছু নিয়ে মিম বানানোর দরকার কী? আসলে, ইতিহাসে মাও সে তুং এক বিতর্কিত অধ্যায়। ১৮৯৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৭৬ সালে মৃত্যু হয় তাঁর। একদিকে তিনি যেমন কৃষি ও শিল্প উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ‘গ্রেট লিপ ফরওয়ার্ড’ চালু করেন, অন্যদিকে তাঁর শাসনকাল নিয়ে অনেক ইতিহাসবিদই নানা বিতর্কের কথা বলেন।
যদিও এরপরেই ক্ষমা চান ফ্রান্সের সেরা ফুটবলার। তিনি বলেন, “আমার ওভাবে বলা উচিত হয়নি। আমি জানি, আমার মন্তব্যের ফলে গোটা বিশ্বের অনেকে আমার উপর ক্ষুব্ধ। আমার মন্তব্য তাঁদের মনে আঘাত দিয়েছে। আমি দুঃখিত। আমার মন্তব্যে যাঁদের খারাপ লেগেছে, তাঁদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি।” একই সঙ্গে দুঃখপ্রকাশ করেছে লা লিগাও। তাঁরাও বিবৃতি দিয়েছে, “এই ঘটনার জন্য তারাও দুঃখিত। এমবাপের এই মন্তব্য সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত ও এর সঙ্গে লা লিগার কোনও সম্পর্ক নেই।”
এমবাপের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা জানিয়েছে চিনের পানীয় প্রস্তুতকারক সংস্থা ডংপেং। বিশ্বকাপের সময় এমবাপেকে তাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর করা হলেও এই বিতর্কের পর তাঁর সঙ্গে সব ধরণের সম্পর্ক ছিন্ন করছে এই সংস্থা। এর পাশাপাশি চিনের বৃহত্তম পণ্য প্রস্তুতকারী সংস্থা মেংনিউ ও চিজ প্রস্তুতকারী সংস্থা মিল্কগ্রাউন্ডও এমবাপের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা জানিয়েছে। যদিও এরপর দুটো জিনিস দেখার। ১, এরপর আর এমবাপেকে নিয়ে এই মিম দেখা যায় কি না। ও ২, ক্ষমা চাওয়ার পর এমবাপেকে নিয়ে চিনের লোকেদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলায় কি না।