
মেঘালয়: ফুটবলকে নিজেদের রাজ্যে এগিয়ে নিয়ে যেতে বড় পদক্ষেপ নিল মেঘালয় সরকার। রাজ্যে আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলার তৈরি করতে নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসিকে ফুটবল অ্যাকাডেমি তৈরির জন্য জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের মন্ত্রিসভা। নিউ শিলংয়ের মাওখানুতে ১৯.৯৯ একর জমি ৪৫ বছরের জন্য লিজ দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই অ্যাকাডেমি তৈরির জন্য ৪০-৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে ক্লাবের। সেখানে ৩টি ফুটবল মাঠ, খেলোয়াড়দের থাকার জন্য হোস্টেল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করা হবে।
মেঘালয়ে ফুটবলের জনপ্রিয়তা অনেকদিন ধরেই আছে। রাজ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ১২৫টি তৃণমূল স্তরের ফুটবল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে। স্থানীয় ক্লাবগুলিকেও আর্থিক সাহায্য করে সরকার। তবে শুধু প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দিয়ে আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলার তৈরি করা সম্ভব নয় বলে মনে করছে রাজ্য সরকার। মেঘালয়ের মন্ত্রিসভার সদস্য ও সরকারি মুখপাত্র ওয়াইলাডমিকি শিল্লা জানিয়েছেন, তরুণ ফুটবলার উন্নতি স্বার্থেই নর্থইস্টের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি শিলং লাজং ক্লাবকে ৩ কোটি টাকা ও মাওলাই স্পোর্টস ক্লাবকে ৩০ লক্ষ টাকা সাহায্য করেছে সরকার।
এর পাশাপাশি নর্থইস্ট ইউনাইটেডের ম্যানেজমেন্ট গুয়াহাটি থেকে শিলংয়ে সরিয়ে আনার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সরকার ইতিমধ্যেই নর্থইস্ট ক্লাবের মালিক অভিনেতা জন আব্রাহামের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। জন আবার মেঘালয়ের পর্যটন বিভাগের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। তবে পুরোপুরি ম্যানেজমেন্ট শিলংয়ে সরবে কী না, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু জানানো হয়নি।
মেঘালয়ে নতুন ফুটবল স্টেডিয়াম তৈরি করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নর্থইস্টের যাবতীয় ম্যাচ এই স্টেডিয়ামেই হবে। শুধু নর্থইস্ট নয়, আইএসএল, ডুরান্ড ও অন্যান্য বড় ফুটবল প্রতিযোগিতাগুলিও এই মাঠে করা হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, বাকি ক্লাবগুলিকে সরকার সাহায্য করা বন্ধ করে দেবে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, অন্য ক্লাবও সরকারের কাছে ভাল প্রস্তাব নিয়ে আসলে সরকার ভেবে দেখবে। কিন্তু এসবের মাঝে প্রশ্ন একটাই। আমাদের বাংলাতেও কী এমন সাহায্য করা যায় না? যাঁরা বাংলার ফুটবলকে বাঁচিয়ে রাখতে চাইছেন, তাঁদের হাতে এমন অর্থ তুলে দেওয়া যায় না? নাহলে কোনদিন বাংলার ফুটবল তলানিতে চলে যাবে, আর সেদিন হয়ত অনেক দেরি হয়ে যাবে।