
মোহনবাগান – ১ (জেলকোভিচ) : ইস্টবেঙ্গল – ০
কলকাতা : ২৩ আগস্ট থেকে ৮ অক্টোবর – কত দিন? প্রায় দেড় মাস? তার মধ্যেই ডুরান্ড ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে ৪-১ গোলে হারের বদলা নিল মোহনবাগান। সেদিন হ্যাটট্রিক করেছিলেন এডমুন্ড। আজ খুঁজেই পাওয়া গেল না তাঁকে। সেমি ফাইনাল দেখে অনেকেই আশা করেছিলেন, মোহনবাগানকে উড়িয়ে দেবে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু উল্টে বাগানের মুহুর্মুহু আক্রমণের সামনে যে দাঁড়াতেই পারবেন না রশিদ-বিষ্ণুরা, কে জানত ? ১৯৭৭ সালে শেষবার ১-০ ফলে বাগান জিতেছিল আইএফএ শিল্ড। তার ৪৯ বছর পর আবার এক ফল, এক গোল। ইস্টবেঙ্গলকে ১-০ হারিয়ে আইএফএ শিল্ড ঘরে তুলল মোহনবাগান।
এদিন শুরু থেকেই লাল-হলুদ দলে ছিলেন না আনোয়ার আলি। সেটাই কি একটু হলেও ব্যাকফুটে ফেলে দিল হাবাসের ছেলেদের? ম্যাচের শুরু থেকেই সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। এডমুন্ডের সেই প্রচেষ্টা আটকে দেন বাগান কিপার বিশাল কাইথ। এরপর থেকেই আক্রমণ শুরু করে মোহনবাগান। একাধিক আক্রমণে তছনছ হয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্স কিন্তু গোল আসে না স্রেফ নিজেদের ব্যর্থতার ফলে। ১৯ মিনিটের মাথায় সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন ছাংতে। ২৩ মিনিটের মাথায় মিস করেন মেহতাবও। অবশেষে প্রথমার্ধের ঠিক শেষের দিকে গোল করে মোহনবাগান। সাহেলের চিপ থেকে বল পান সমীর জেলকোভিচ। তিনি বল সোজা ঠেলে দেন গোলে।
দ্বিতীয়ার্ধে জয় গুপ্তাকে তুলে জলিনস্কিকে নামান লাল-হলুদ কোচ হাবাস। দ্বিতীয়ার্ধেও চাপ বজায় রাখে মোহনবাগান। ৬০ মিনিটের মাথায় মাথা ফাটে বাগানের ডেজান ড্র্যাজিচের। তবুও তিনি খেলা চালিয়ে যান। ৬৬ মিনিটে সাহালকে তুলে মণবীরকে নামান বাগান কোচ প্যানোস। ৭৫ মিনিটের পর থেকেই আচমকা ফিজিক্যাল খেলা শুরু করে ইস্টবেঙ্গল। অযথা ফাউল, মিসপাস করতে গিয়ে বারবার খেলার ছন্দ নষ্ট হয়ে যায়। যদিও এর মধ্যেও বেশ কিছু সহজ সুযোগ পেয়েছিল দুই দল, কিন্তু গোল আর আসেনি। অতিরিক্ত ৭ মিনিট পেয়েও গোল শোধ করতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল, ফলে চ্যাম্পিয়ন হল মোহনবাগান।
ডুরান্ড কাপের হারের বদলা নেওয়ার পর এই ম্যাচ যেমন প্যানোসকে অক্সিজেন দেবে, তেমন লাল-হলুদ সমর্থকদের মনেও প্রশ্ন থাকবে, কেন আজ এত ছন্নছাড়া খেলল ইস্টবেঙ্গল? কেন এত বাজে ডিফেন্স হল? কেন নামলেন না আনোয়ার আলি? হাবাসের মাথায় উত্তর আছে তো?