
কলকাতা: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ভারতের হার নিয়ে চর্চার শেষ নেই। এই ধাক্কাতেই কি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে দূর সরে গেল সূর্যকুমার যাদবের টিম? সাত থেকে ১৫তম ওভারের মধ্যে ভারত হেরেছে, এমনই দাবি ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার মহম্মদ কাইফের। তাঁর মতে, সেই সময়ে ডেভিড মিলার ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের জুটি ভাঙতে ভারত অধিনায়ক জসপ্রীত বুমরাকে ব্যবহার করেননি। আর সেখানেই ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায়। অর্থাৎ, সূর্যের ক্যাপ্টেন্সি গলদ তুলে ধরেছেন কাইফ।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে কাইফ বলেন, “আমরা ম্যাচটা হেরেছি ৭ থেকে ১৫ ওভারের মধ্যে। বুমরাকে দিয়ে শুরুতেই দুটো ওভার করানো হয়েছিল। আর বাকি দুটো ওভার রেখে দেওয়া হয়েছিল ডেথ ওভারের জন্য। রোহিত শর্মা কখনও বুমরাকে এ ভাবে ব্যবহার করেনি।” তিনি আরও বলেন, “রোহিত প্রয়োজন মতো মাঝের ওভারে একটা ওভার বুমরাকে দিয়ে করাত। যাতে বিপক্ষের সেট পার্টনারশিপ ভাঙা যায়। বুমরার স্পেলের মধ্যে এত ব্যবধান থাকত না। ভারতীয় দলে বুমরার চেয়ে বড় ম্যাচ উইনার আর কেউ নয়। ওকে শুধু একটা ওভার পাওয়ার প্লে-তে করিয়ে ১১ কিংবা ১২ ওভারে আবার আক্রমণে আনা উচিত ছিল।”
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বুমরা পাওয়ার প্লে-তে দু’ওভার বল করে নেন কুইন্টন ডি কক ও রায়ান রিকলটনের উইকেট। বুমরা ও অর্শদীপ সিং ছাড়া ভারতের বাকি বোলারদের বিরুদ্ধে প্রোটিয়া ব্যাটাররা রান তুলতে কোনও সমস্যায় পড়েননি। বুমরাহকে আবার আক্রমণে আনা হয় ১৭তম ওভারে। তার আগেই দক্ষিণ আফ্রিকা ১৫২-৫ অবস্থায় ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। তখন ক্রিজে ছিলেন ট্রিস্টান স্টাবস। রবিবার আমেদাবাদে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ৭৬ রানে হারিয়ে দেয় ভারতকে। টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের টানা ১২ ম্যাচের অপরাজিত থাকার অভিযান শেষ হয়ে গিয়েছে।
টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রানের হিসেবে এটি ভারতের দ্বিতীয় বড় হার। ২০১৯ সালে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারত ৮০ রানে হেরেছিল। টি২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে রানের হিসেবে এটি ভারতের সবচেয়ে বড় হার। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৭৬ রানের এই হার ভারতের সেমিফাইনালে ওঠার সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে। শিরোপা ধরে রাখার আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে ‘মেন ইন ব্লু’-দের বাকি দুটি ম্যাচ বড় ব্যবধানে জিততে হবে এবং নেট রানরেট ভালো রাখতে হবে।