
কলকাতা: বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে আর কিছুক্ষণ পরেই নামতে চলেছে ভারত বনাম ইংল্য়ান্ড। তবে এই ম্য়াচে ইংল্যান্ডের সাদা বলের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের জন্য অপেক্ষা করছে বড় পরীক্ষা। গত দুই বছরে ধীরে ধীরে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম প্রতিভাবান ব্যাটার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন হ্য়ারি ব্রুক। পরিসংখ্যানও তার পক্ষেই কথা বলছে। তাঁর পারফরম্যান্সও চমৎকার। তবে ক্রিকেট শুধু সংখ্যা দিয়ে মাপে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী পারফরম্যান্স, পাল্টা লড়াই একজন খেলোয়াড়কে দাঁড় করায়। একসময় বিশ্ব ক্রিকেটে ‘ফ্যাব ফোর’ নামে পরিচিত ছিলেন বিরাট কোহলি, জো রুট, স্টিভ স্মিথ এবং কেন উইলিয়ামসন। তাঁরা বিভিন্ন ফর্ম্যাটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং বড় ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছিলেন। প্রত্যেকের ক্যারিয়ারে ছিল এমন একটি করে ইনিংস যা বিশ্ব ক্রিকেটকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল।
২০১২ সালে হোবার্টে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে কোহলির ৮২ বলে ১৩৩ রানের ইনিংস। সেই ম্য়াচই তাঁকে বিশ্ব মঞ্চে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল। স্মিথের ২০১৪ সালে ভারতের বিরুদ্ধে অপরাজিত ১৬২ রান। উইলিয়ামসনের ২০১০ সালে আহমেদাবাদে ১৩১ রান অবিশ্বাস্য ইনিংস। ২০১৪ সালে লর্ডসে জো রুটের ১৮০ রানের সেই ইনিংস। এ সবই ছিল তাঁদের ক্যারিয়ারের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সেই প্রজন্ম শেষ। নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মধ্যে বর্তমানে আলোচনায় রয়েছেন ট্রাভিস হেড, ফিল সল্ট ও তিলক বর্মার মতো নাম। তবে হ্যারি ব্রুকও সেই আলোচনার কেন্দ্রে আছেন। ব্রুক নিজেও জানেন, বড় মঞ্চই স্বীকৃতি দেয়। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সুপার এইট পর্বে তিন নম্বরে নেমে তাঁর সেঞ্চুরি প্রমাণ করেছে, তিনি চাপের মুহূর্তে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন। তবে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ আর ভারতের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল, দুটোর গুরুত্ব এক নয়।
এই টুর্নামেন্ট চলাকালীন আরও একটি বিতর্কে জড়িয়েছিলেন হ্যারি। নাইট ক্লাবের এক বাউন্সারের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। সমালোচনার ঝড় উঠলেও ব্রুক সেই চাপ সামলে আবার মাঠে নিজের ছাপ ফেলেছেন। সেমিফাইনালের আগে ব্রুক বলেছেন, “বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আয়োজক দেশের বিরুদ্ধে এমন ঐতিহাসিক মাঠে খেলতে পারা আমাদের জন্য স্বপ্নপূরণের।” ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ ও বোলিং আক্রমণের সামনে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ভরসা হতে পারেন ব্রুকই। ওয়াংখেড়ের রোমাঞ্চকর পরিবেশে যদি তিনি নিজের সেরাটা দিতে পারেন, তবে হয়তো এই ইনিংসই তাকে নতুন প্রজন্মের ‘ফ্যাব ফোর’এর আলোচনায় স্থায়ী জায়গা করে দেবে।