
উরুগুয়ে – ৬ (নুনেজ, আরাউহো ২, জালাজার, সানাব্রিয়া, আগুইরে) : ভারত – ১ (থাপা)
কলকাতা : আজকের ম্যাচ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভুলতে চাইবেন ভারতের গোলকিপার গুরপ্রীত সিং, তত মঙ্গল। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে তাও তিনি ৩ গোল খাবার পর তাঁকে তুলে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন কোচ খালিদ জামিল। আজ ৫ খানা খেলেন, যার মধ্যে ৩ খানায় ডিফেন্সের ভুলে। ফলে, ৩টি ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলে একটি ম্যাচেও জিতল না ভারত। পানামার বিরুদ্ধে ড্র, ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ৪-০ হারের পর এবার উরুগুয়ের কাছেও ৬-১ গোলে হারল ভারত।
আজকের ম্যাচে শুরু থেকেই চমক দিয়েছিলেন ভারত কোচ খালিদ জামিল। বিজয় ভার্গিস ও সাহালের বদলে দলে সুযোগ পেয়েছিলেন পরমবীর ও এডমুন্ড। উল্টো দিকে, উরুগুয়ে দলে ছিলেন ৬ জন বিশ্বকাপার। শুরু থেকেই আক্রমণ শুরু করে ভারত। একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকেন রায়ান উইলিয়ামস, আকাশ মিশ্ররা। কিন্তু ১০ মিনিটের মাথায় প্রথম গোল খায় ভারত। বক্সের মধ্যে ফেডেরিকো ভিনাসকে বক্সে ফেলে দেন পরমবীর। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টি দেন রেফারি। গোল করতে ভুল করেননি লিভারপুলের তারকা ফুটবলার ডারউইন নুনেজ। এর কিছুক্ষনের মধ্যেই আরাউহোর শট পোস্টে লাগে। তারপর থেকেই আবার তেড়েফুঁড়ে ওঠে ভারত। একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকেন এডমুন্ডরা। ২৩ মিনিটের মাথায় গোল করলেন অনিরুদ্ধ থাপা। উরুগুয়ে গোলের দিকে জোরালো শট মারেন রায়ান উইলিয়ামস। উরুগুয়ের কিপার কার্দোজো সেই শট আটকে দিলে ফিরতি বলে গোল করে যান অনিরুদ্ধ। এর পরেই প্রবল বজ্র বিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি শুরু হয় ফলে ৩৫ মিনিট বন্ধ থাকে ম্যাচ। খেলা শুরু হতেই আবার গোল করে উরুগুয়ে। নান্দেজের বাড়ানো বল থেকে গোল করে যান ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো। প্রথমার্ধে ১-২ পিছিয়ে শেষ করে ভারত।
দ্বিতীয়ার্ধ জুড়ে শুধুই হতাশা। ৫৩ মিনিটে গোল পায় উরুগুয়ে। নুনেজের হেড থেকে পাওয়া বল গোলে ঠেলে দেন জালারজা। এর মিনিট ছয়েক পরেই আবার গোল। ভিনাসের অ্যাসিস্ট থেকে বল পান আরাউহো। তিনি বক্সের ভিতরে কাটিয়ে দুরন্ত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। নির্বাক দর্শক হয়ে দেখলেন গুরপ্রীত। ৬৫ মিনিটে অভিষেক টেকচ্যামের বদলে নামলেন ভালপুইয়া ও আশিকের জায়গায় সাহাল। এরপরেই যেন আরও খেই হারিয়ে ফেলল ভারত। ৭০ মিনিটের মাথায় সানানের শট বাঁচান কোর্দোজা। পরের মিনিটে আবার গোল করে উরুগুয়ে। পরিবর্ত হিসেবে নামা সানাব্রিয়া বক্সে বল পেয়ে ৫ নম্বর গোল করেন। ৮৬ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে গোল করে যান আগুইরে। যদিও ৭৮ মিনিটে গোলকিপার পরিবর্তনের ফলে গুরপ্রীতের বদলে গোলে আসেন অ্যালবিনো গোমস কিন্তু তাঁরও কিছু করার ছিল না। উরুগুয়ের ৪ নম্বর গোলের পরই মাঠে শোনা যায় ‘গুরপ্রীত গো ব্যাক’ স্লোগান, এরপরে আর ভারত খুব একটা সুযোগ পায়নি তাই ৬-১ ফলেই শেষ হল ম্যাচ।
তবে এই ম্যাচগুলি থেকে প্রাপ্তির ভান্ডার কি শূন্য? একদমই নয়। এই যে বিশ্বফুটবলের তাবড় তাবড় দেশগুলির বিরুদ্ধে ভারত চোখে চোখ রেখে লড়াই করছে, গোল খেলেও পাল্টা গোল করার জন্য আক্রমণ করার সাহস দেখাচ্ছে, ডিফেন্সিভ না খেলে আক্রমণে উঠছে বারংবার, এগুলোই আশা জাগাবে ভারতের ফুটবল সমর্থকদের। আজকের ম্যাচে প্রথম ২৫ মিনিট ভারত দুর্দান্ত খেলেছে, নেহাৎ বৃষ্টি এসে ভারতের মোমেন্টাম নষ্ট করে দিল তাই। কিন্তু যদি রায়ানের মতো আরও ২-৩ জন ওসিআই ফুটবলার আসেন, তাহলে হয়ত আরও উন্নতি হবে। তবে এখানেই প্রশ্ন। একটা দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৫০ কোটি, সেই দেশে ৩ জন ভাল ফরোয়ার্ড নেই? এতটা দুরবস্থা শেষে ওসিআই এনে ভাল খেলার আশা করতে হচ্ছে? এই দুশ্চিন্তাকে ভুল প্রমাণ করলেই হয়তো সমর্থককূল খুশি হবেন।