
মোবাইল ছাড়া এক মুহূর্ত কাটে না? সারাক্ষণ যে মোবাইল নিয়ে নাড়াচাড়া করছেন, তার উপরে কত লক্ষ কোটি জীবাণু ছড়িয়ে আছে সে খবর রাখে না কেউই। ঘরে, অফিসে কিংবা রাস্তাঘাটে, সর্বক্ষণ মুঠোফোনের টাচ স্ক্রিনে আঙুল চলছে ক্রমাগত। সেই আঙুল মুখে, চোখে, নাকে লাগছে। শরীরে ঢুকে পড়ছে রোগ জীবাণু। গবেষণা বলছে, টয়লেট সিটের চেয়েও 10 গুণ বেশি নোংরা আমাদের মোবাইল ফোন। আবার এটি ধরার ফলে আপনার হাতেও লেগে যাচ্ছে জীবাণু। গবেষণায় একটি বিশেষ ধরণের লাইট ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের চামড়ার সঙ্গে বিক্রিয়া করবে এইধরনের ব্যাকটেরিয়ার হদিশ পাওয়া গিয়েছে। টয়লেটের সিটে সেই লাইটের ব্যবহার করার পর প্রায় 200 টি উজ্জ্বল স্পট দেখতে পাওয়া যায়, অর্থাৎ সেই উজ্জ্বল জায়গাগুলোয় ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। কিন্তু ফোনের ওপর সেই আলো ফেলতে বিশেষজ্ঞরা ফোনে ওই উজ্জ্বল স্পটের সংখ্যা দেখতে পায় প্রায় 1 হাজার 700। অর্থাৎ, টয়লেটের সিটের তুলনায় পায় 10 গুণ বেশি।
জীবাণুরা কীভাবে বাসা বাঁধে মোবাইলে?
এই বিষয়ে অ্যাবারডিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকটিরিওলজির প্রফেসর জানান, সাধারণত সারা দিন ধরে ফোন সঙ্গে থাকে বলেই এত পরিমাণ ব্যাকটেরিয়ার হদিশ পাওয়া গিয়েছে। কথা বলার সময় গায়ের ঘাম থেকেও এই ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়। বিজ্ঞানীদের দাবি, “মোবাইল এমন একটা বস্তু রান্নাঘর থেকে টয়লেট পর্যন্ত আমাদের হাতে ঘোরাফেরা করে। আর এই মোবাইলের সঙ্গে মিশে যায় আমাদের শরীরের ঘাম এবং ময়লা, যার আরও বাড়তে থাকে জীবাণুরা। এছাড়া মোবাইল অন থাকলে এবং ক্রমাগত হাত দিয়ে নাড়াচাড়া করলে দ্রুত ছড়াতে পারে রোগ। ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে মোবাইলের তাপমাত্রা এমনিতেই বেশি থাকে। এই তাপ ব্যাকটেরিয়াদের বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। আর এর ফলে ভয়ঙ্কর অসুখ বাসা বাঁধতে পারে আমাদের শরীরে।”
তবে আপনার স্মার্টফোনটি পরিস্কার রাখবেন কীভাবে?
ফোনের স্ক্রিনে নির্দিষ্ট সময় অন্তর পরিষ্কার করা দরকার। এর জন্য আইসোপ্রোফিল অ্যালকোহল ব্যবহার করতে পারেন। তবে খুব নরম একটা কাপড় দিয়েই স্ক্রিনটি পরিস্কার করবেন। কারণ তাতে স্ক্রিনে দাগ লাগতে পারে। প্রয়োজনে তুলো বা পরিষ্কার করার জন্য যে বিশেষ কাপড় পাওয়া যায় তা কিনতে পারেন। স্ক্র্যাচ মোছার জন্য ম্যাজিক ইরেজ়ারও (Magic Eraser) ব্যবহার করতে পারেন। খুব অল্প পরিমাণ ম্যাজিক ইরেজ়ার ব্যবহার করতে হবে। তাতে স্ক্রিনের স্ক্র্যাচ মোছা সম্ভব। অথবা গ্ল্যাস পলিশ ব্যবহার করতে পারেন।