
বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র (আসন নং ১৬১) পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা জেলার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মর্যাদাপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা। এটি কলকাতা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রের একটি অংশ এবং কলকাতা পৌরসংস্থার ৬০, ৬১, ৬৪, ৬৫, ৬৮, ৬৯ এবং ৮৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত।
বালিগঞ্জ কলকাতার অন্যতম অভিজাত এবং বৈচিত্র্যময় এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে যেমন দক্ষিণ কলকাতার বনেদি ও বিত্তশালী পরিবারের বসবাস রয়েছে, তেমনই পার্ক সার্কাস ও সংলগ্ন এলাকায় একটি বড় সংখ্যার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এই মিশ্র জনতত্ত্বের কারণে আসনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। দীর্ঘকাল বামফ্রন্টের দখলে থাকলেও, গত দুই দশকে এটি তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) অবিভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়েছে।
প্রয়াত প্রবীণ নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায় এই কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের বিধায়ক ছিলেন। তাঁর প্রয়াণের পর ২০২২ সালের উপ-নির্বাচনে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন। এছাড়াও সিপিআই(এম)-এর সায়রা শাহ হালিম এবং বিজেপির কেয়া ঘোষ এই কেন্দ্রের অন্যতম আলোচিত মুখ। গত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয় মোট ৫১,১৯৯ ভোট পান। ভোটের হার ছিল ৪৯.৬৯ শতাংশ। সিপিআই(এম)-র প্রার্থী সায়রা শাহ হালিম ৩০,৯৭১ ভোট পেয়েছিলেন। ভোট শতাংশ ৩০.০৬ শতাংশ ছিল। বিজেপি প্রার্থী কেয়া ঘোষ মোট ১৩,২২০ ভোট পেয়েছিলেন। মোট ১২.৮৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।
এবারের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে লড়ছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন শতরূপা ঘোষ, সিপিএম (CPIM)-র হয়ে লড়ছেন আফরিন বেগম। কংগ্রেস (INC)-র হয়ে লড়ছেন সোমেন মিত্রের ছেলে রোহন মিত্র।
২০২১ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে ২০২২ সালে এখানে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২০,২২৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে তাদের আধিপত্য বজায় রাখে। তবে সিপিআই(এম)-এর ভোট শতাংশের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।