Bankura: ‘জঙ্গলে আগুন লেগেছে রে আগুন…’,হাঁপাতে-হাঁপাতে এল ছোট্ট সৌম্য, রুখল বড় ক্ষতি
Bankura: গ্রীষ্মকালে জঙ্গলের ঝরা পাতায় আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে আকছার। সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয় বন দফতরকে। বারেবারে সচেতনতা প্রচার করেও একশ্রেণির মানুষের ঘুম যেন কিছুতেই ভাঙছে না।

বাঁকুড়া: জঙ্গলে ঝরা পাতায় আগুন লেগেছে। দাউ দাউ করে জ্বলা সেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে জঙ্গলজুড়ে। স্কুলে যাওয়ার পথে বিষয়টা নজরে এসেছিল এক খুদে পড়ুয়ার। সেই পড়ুয়াই ছুটে গিয়ে খবর দেয় স্কুলে। তারপর পড়ুয়া ও শিক্ষক সকলে মিলে কার্যত গোটা স্কুল ঝাঁপিয়ে পড়ে আগুন নেভানোর কাজে। হাতের কাছে যে যা পেল তাই দিয়েই আপ্রাণ চেষ্টা করল আগুন নেভানোর। বাঁকুড়ার খাগ জুনিয়র হাইস্কুলের খুদে পড়ুয়াদের এমন সচেতনতায় হতবাক এলাকায় মানুষ।
গ্রীষ্মকালে জঙ্গলের ঝরা পাতায় আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে আকছার। সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয় বন দফতরকে। বারেবারে সচেতনতা প্রচার করেও একশ্রেণির মানুষের ঘুম যেন কিছুতেই ভাঙছে না। কোনও না কোনও ক্ষেত্রে, মজার ছলে আবার কোথাও মানুষের অসাবধানতায় প্রায়শই জঙ্গলের ঝরাপাতায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। হাজার সচেতনতা প্রচারেও যখন এই ধরনের ক্ষতি এড়ানো যাচ্ছে না, সেই সময় জঙ্গলঘেরা খাগ জুনিয়ার হাইস্কুলের খুদে পড়ুয়াদের সচেতনতায় হতবাক স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে বন কর্মীরা।
জানা গিয়েছে, খাগ জুনিয়র হাইস্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সৌম্য কর্মকার স্কুলে যাওয়ার জঙ্গলপথের ধারে শুকনো ঝরা পাতায় আগুন জ্বলতে দেখে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে দেখে আর নির্বিকার থাকতে পারেনি সৌম্য। প্রাণপণে সে স্কুলে ছুটে গিয়ে খবর দেয় অন্যান্য পড়ুয়া ও শিক্ষকদের। এরপর হাতের কাছে গাছের ডাল,ধুলো যে যা পারে তা নিয়ে ছুটতে থাকে ঘটনাস্থলে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে তারা। বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে বেরিয়ে স্কুলের খুদে পড়ুয়াদের এই পরিবেশ সচেতনতা অবাক করেছে এলাকার মানুষকে। প্রশংসা কুড়িয়েছে বন দফতরেরও।
এ প্রসঙ্গে অঙ্কনা ঘোষ নাম এক খুদে পড়ুয়া বলে, “আমরা পরীক্ষা দিতে এসেছিলাম। দেখি সৌম্য ছুটে আছে। হাঁপাচ্ছে। আমরা বললাম কী হয়েছে রে? বলল আর বলিস না জঙ্গলে আগুন লেগেছে। স্যারকে বলি। স্যারও দৌড়ে গেল। তারপর যা পেলাম তাই দিয়েই আগুন নেভানোচ চেষ্টা করলাম। গাছপালা মরে গেলে আমাদেরও তো ক্ষতি।”
