
বাঁকুড়া: প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে এবার নাম জড়াল রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বাঁকুড়া জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান শ্যামল সাঁতরার। সিবিআইয়ের তরফে পাওয়া তালিকা অনুযায়ী ২২ জনের চাকরি হয়েছে তাঁর সুপারিশেই। তালিকা সামনে আসতেই শুরু হয় ব্যাপক শোরগোল। তদন্তের দাবিতে সরব বিরোধীরা। অভিযোগ উড়িয়ে শ্যামলের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের কোতুলপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে জেতেন শ্যামল সাঁতরা। ২০১৬ সালে পুনরায় ওই একই আসন থেকে জিতে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী হন তিনি। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হওয়ায় তাঁর পদ গেলেও সম্প্রতি তাঁকে বাঁকুড়া জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান পদে বসায় ঘাসফুল শিবির। সিবিআই রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে তদন্তে নেমে সম্প্রতি ৩২৪ জন শিক্ষকের নামের তালিকা পায়। অভিযোগ, এদের চাকরি হয়েছিল বিভিন্ন প্রভাবশালীর সুপারিশে। সেই তালিকায় দেখা যায় ২২ জনের চাকরি হয়েছিল এই শ্যামল সাঁতরার সুপারিশে। তালিকা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় রাজনৈতিক শোরগোল।
বিজেপির দাবি, কার নির্দেশে, কত টাকার বিনিময়ে শ্যামল সাঁতরা এই ২২ জনের চাকরির সুপারিশ করেছিলেন তা সিবিআই কে জানিয়ে দেওয়া উচিৎ শ্যামল সাঁতরার। বামেদের দাবি, গোটা ঘটনার তদন্ত হোক। তদন্ত হলেই আসল বিষয় সামনে আসবে। অভিযুক্ত শ্যামল সাঁতরা অবশ্য গোটা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। স্পষ্ট বক্তব্য, সব ফালতু কথা। প্রচারের আলোয় আসতেই বিরোধীরা এই কাজ করছে। তাঁর দাবি, ২০২৬ এর নির্বাচনকে মাথায় রেখে তাঁর মতো তফশিলি সম্প্রদায়ের নেতাদের এভাবেই ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। তবে সিবিআই তলব করলে তিনি সহযোগিতা করবেন বলেও জানিয়েছেন।