Bankura: ব্রিজ ভেঙে ঝুলে গিয়েছে, তার উপর দিয়েই চলছে যাতায়াত, বাঁকুড়ার হাল দেখুন
West bengal: বছর দু'য়েক আগে প্রবল বর্ষায় স্তম্ভ বসে গিয়ে কার্যত ঝুলে পড়েছিল সেতু। সেতুটিকে ভাঙা সেতু তকমা দিয়ে বোর্ড টাঙিয়েই দায় সেরেছে প্রশাসন। কিন্তু বিকল্প পথ না থাকায় অগত্যা বিপজ্জনকভাবে ঝুলে থাকা সেই সেতু দিয়েই গত ২ বছর ধরে যেমন সাধারণ মানুষ থেকে স্কুল কলেজ পড়ুয়ারা নদী পারাপার করছেন তেমনই সেই বিপজ্জনক সেতুর উপর দিয়েই অবাধে চলছে ভারী-ভারী বড় গাড়ি।

বাঁকুড়া: চারিদিকে বালির স্তুপ। সেই বালির উপর গড়ে উঠেছিল একটি সেতু। সংশ্লিষ্ট সেতুর অবস্থা দেখতে ভেবলে যেতে হয়। একটা অংশ ভেঙে পড়েছে, প্রায় ঝুলে গিয়েছে বলা যায়। তার উপর দিয়ে বাইক চলছে, সাইকেল যাচ্ছে। হেঁটেও মানুষজন যাচ্ছে। বছর দু’য়েক আগে প্রবল বর্ষায় স্তম্ভ বসে গিয়ে কার্যত ঝুলে পড়েছিল সেতু। সেতুটিকে ভাঙা সেতু তকমা দিয়ে বোর্ড টাঙিয়েই দায় সেরেছে প্রশাসন। কিন্তু বিকল্প পথ না থাকায় অগত্যা বিপজ্জনকভাবে ঝুলে থাকা সেই সেতু দিয়েই গত ২ বছর ধরে যেমন সাধারণ মানুষ থেকে স্কুল কলেজ পড়ুয়ারা নদী পারাপার করছেন তেমনই সেই বিপজ্জনক সেতুর উপর দিয়েই অবাধে চলছে ভারী-ভারী বড় গাড়ি। যে কোনও মূহুর্তে আস্ত সেতুই ভেঙে পড়বে হুড়মুড়িয়ে। ভোটের মুখে বাঁকুড়ার সোনামুখী ব্লকের রামপুর এলাকায় থাকা শালী নদীর এই সেতু নিয়ে শাসক বিরোধী তরজা তুঙ্গে। ভোটের মুখে প্রশাসনের তরফেও শোনা যাচ্ছে আশ্বাসের সুর।
বছর দু’য়েক আগে প্রবল বর্ষায় শালী নদীর বন্যায় নদীর বালি ও মাটির স্তর সরে যেতেই বাঁকুড়ার সোনামুখী ব্লকের রামপুর এলাকায় থাকা শালী নদীর সেতুর একাধিক স্তম্ভ বসে যায়। স্তম্ভগুলি বসে যেতেই কার্যত ‘ভি’ (V) এর আকারে বিপজ্জনকভাবে ঝুলে পড়ে সেতুর একটা বড় অংশ। খবর পাওয়ার পর প্রশাসনিক আধিকারিক থেকে শুরু করে বারেবারে ছুটে গিয়েছেন শাসক দলের নেতারা। প্রশাসনের তরফে সেতুর পাশে ভাঙা সেতুর তকমা দেওয়া বোর্ড টাঙিয়ে যেমন দায় সারা হয়েছে।
অগত্যা ভাঙা সেই বিপজ্জনক সেতুই একমাত্র ভরসা শালী নদীর দু পাড়ে থাকা সোনামুখী ব্লকের হামিরহাটি, পিয়ারবেড়া ও ধুলাই গ্রাম পঞ্চায়েতের কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ টি গ্রামের মানুষের। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের তরফে ভাঙা ওই সেতু দিয়ে নদী পারাপার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। উপায় না থাকায় সাধারণ মানুষ থেকে পড়ুয়া, রোগীর অ্যাম্বুলেন্স থেকে ভারী মালবাহী ট্রাক সবই পারাপার করে নিষিদ্ধ ওই সেতু দিয়ে। স্থানীয়দের দাবি মেনে বর্ষার পর কংক্রিটের ওই ভাঙা সেতুর একাংশে মোরামের স্তরও বিছিয়ে দেয় স্থানীয় প্রশাসন।
এদিকে বিধানসভা ভোটের আগে সোনামুখী বিধানসভায় এই সেতুর বেহাল দশাই হয়ে উঠছে বিরোধীদের অন্যতম অস্ত্র। মানুষের এই দুর্ভোগের জন্য রাজ্য সরকারকেই কাঠগোড়ায় তুলছে বিরোধীরা। পাল্টা স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক ও সাংসদকে খোঁচা দিয়ে দ্রুত সেতু তৈরির আশ্বাস দিয়েছে শাসক দল। শাসক দলের সুরে সুর মিলিয়ে ব্লক প্রশাসনের দাবি ইতিমধ্যেই সমীক্ষার কাজ হয়েছে।
এক গ্রামবাসী বলেন, “এই ব্রিজের কোনও উন্নতি নেই। বিগত দু’বছর ধরে একই অবস্থায় আছে। স্কুলের বাচ্চাদের জন্য খুবই অসুবিধাজনক অবস্থা। অনেকে গাড়ি নিয়ে পড়ে যায়। এমনকী একটা বাচ্চাও মারা গিয়েছে।” সোনামুখীর বিডিও নীলোৎপল চক্রবর্তী বলেন, “আমরা সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। দু’দিন আগে সার্ভের কাজ হয়ে গেছে।”
