Calcutta High Court: ১৬ লক্ষের নিলামে হাজারের বেশি গাছ, জঙ্গল নিধনে হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিতেই সুর বদল পঞ্চায়েতের
Calcutta High Court: সম্প্রতি ফের গাছগুলি কাটার জন্য ১০ মার্চ নিলামের দিন ধার্য করে স্থানীয় সিহড় গ্রাম পঞ্চায়েত। সূত্রের খবর, নিলামের দর ধার্য হয় ১৬ লক্ষ টাকা। ফের গাছের নিলামের দিন ধার্য হতেই আদালতকে বিষয়টি জানান মামলাকারীদের আইনজীবী।

বাঁকুড়া: নিয়ম না মেনেই জঙ্গল নিধনের নিলাম করেছিল স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত। কিন্তু রুখে দাঁড়ান স্থানীয়রা। পঞ্চায়েতের এই নিলামের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আদালতের দ্বারস্থও হন স্থানীয় দুই গ্রামবাসী। অবশেষে হাইকোর্টের অমৃতা সিনহার বেঞ্চের নির্দেশে আপাতত স্থগিতাদেশ। আদালতের নির্দেশ মিলতেই সুর বদল পঞ্চায়েতেরও।
বছর ২০-২৫ আগে বাঁকুড়ার কোতুলপুর ব্লকের সিহড় গ্রাম পঞ্চায়েত স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যৌথভাবে বেশ কিছু ইউক্যালিপটাস গাছ লাগায়। সেই গাছ বড় হয়ে গেলে ২০১২ সালে টেন্ডার করে ওই গাছ বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় সিহড় গ্রাম পঞ্চায়েত। সে সময়ই গাছ বিক্রির টেন্ডারে বেনিয়মের অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন দুই এলাকাবাসী। মামলার জেরে তখনকার মতো থমকে যায় গাছ কাটার কাজ।
সম্প্রতি ফের গাছগুলি কাটার জন্য ১০ মার্চ নিলামের দিন ধার্য করে স্থানীয় সিহড় গ্রাম পঞ্চায়েত। সূত্রের খবর, নিলামের দর ধার্য হয় ১৬ লক্ষ টাকা। ফের গাছের নিলামের দিন ধার্য হতেই আদালতকে বিষয়টি জানান মামলাকারীদের আইনজীবী। আদালতে সুর চড়ান মামলাকারীদের আইনজীবী। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ গাছ সুরক্ষা আইন অনুযায়ী এভাবে গাছ নিলাম করার এক্তিয়ার নেই গ্রাম পঞ্চায়েতের। এরপরই হাইকোর্টের অমৃতা সিনহার বেঞ্চ ওই গাছ কাটার উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। একই সঙ্গে কিসের ভিত্তিতে ওই গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান গাছ নিলামের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা জানিয়ে বন দফতরের বিভাগীয় বনাধিকারিকের রিপোর্টও তলব করে আদালত।
আদালতের এই নির্দেশ জানার পরই সুর বদল করে ফেলে গ্রাম পঞ্চায়েত। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের দাবি, যে প্লটের গাছ নিলাম করা হয়েছে সেখানে ১০৫৫ টি ইউক্যালিপটাস গাছ রয়েছে। এই গাছগুলির মধ্যে যেগুলি পরিণত সেগুলি নিলাম করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, আদালত তাতে স্থগিতাদেশ দেওয়ায় তাঁরাও নাকি খুশি। অন্যদিকে আদালতের এই রায়ে স্বভাবতই খুশির হাওয়া গ্রামেও।
