
বাঁকুড়া: ভোট মিটলেই আরও ৭টা নতুন জেলা পেতে চলেছে বাংলা? জল্পনা-প্রতিশ্রুতি দীর্ঘদিন থেকেই শোনা যাচ্ছিল। এবার ভোটের মুখে ফের সেই কথা শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের গলায়। ২০২২ সালে এক মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরেই নতুন সাত জেলার কথা শোনা গিয়েছিল মমতার মুখে। সেই সময়েই জানিয়েছিলেন নদিয়া জেলা ভেঙে রানাঘাট জেলা, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা ভেঙে ইছামতি ও বসিরহাট জেলা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ভেঙে সুন্দরবন জেলা, মুর্শিদাবাদ জেলা ভেঙে বহরমপুর ও কান্দি জেলা এবং বাঁকুড়া জেলা ভেঙে বিষ্ণুপুর জেলা তৈরি হতে পারে।
ভোটের মুখে কিছুদিন আগে তৃণমূলের তরফে ইস্তেহারও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানেও নতুন সাত জেলা তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। মূলত প্রশাসনিক চাপ কমাতে, আরও উন্নতভাবে সরকারি পরিষেবা প্রদান করতে এই নতুন ৭ জেলার কথা বলা হয়েছে। ৭ জেলার তালিকায় থাকছে কান্দি, বহরমপুর, বিষ্ণুপুর, সুন্দরবন, রানাঘাট, ইছামতী এবং বসিরহাট। তারপর থেকে তা নিয়ে চাপানউতোর তুঙ্গে।
পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের সভা থেকে নতুন ৭ জেলার কথা বলার পাশাপাশি ফের একবার কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে সরব হন মমতা। সুর চড়ান এসআইআর নিয়ে। সুর চড়ান কমিশন থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে। তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার রাস্তা, বাংলার বাড়ির, ১০০ দিনের কাজের টাকা দেয় না। আগামীদিন সমস্ত কাঁচা বাড়ি পাকা করে দেব। একইসঙ্গে পানীয় জল নিয়েও দেন বড় প্রতিশ্রুতি। বলেন, “বাংলার সব বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে যাবে। এক কোটি বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে। বাকিগুলোও করে দেব। এবার দুয়ারে স্বাস্থ্য করব। আপনার গ্রামে ব্লকে চিকিৎসকরা আসবেন।” এর পরেই পদ্ম শিবিরের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলেন, “যখন আপনারা বিজেপির চক্রান্তকে রুখে দিয়ে প্রতিটি ভোট জোড়াফুলে দেবেন তখনই এগুলো আমরা করতে পারবো। বিজেপি চুরি করেছে কোটি কোটি টাকা। আর ভোটের আগে ৫০০ – ১০০০ টাকা গুঁজে দিচ্ছে। ওরা আপনাদের ভালো চায় না, শুধু নিজেদের ভালো চায়। দিল্লি থেকে বাবুরা আসছেন। আর মানুষকে ভ্যানিশ করে দিচ্ছে। এক কোটি ২০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দিয়েছে। বলেছিল সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে বেরোবে। এখনো চোখে দেখলাম না। তালিকা না পেলে মানুষ বুঝবে কী করে! বিজেপির মতো এত বজ্জাত, শয়তান, বুলডোজারি দেখিনি।”