
বর্ধমান: প্রচারের ময়দানে এবার রাজনৈতিক সৌজন্যের ছবি। নতুন নজির গড়লেন দিলীপ ঘোষ। গোষ্ঠী কোন্দলে জখম তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীকে দেখতে হাসপাতালে যান দিলীপ। বর্ধমান মেডিকেল কলেজে গিয়ে ওই কর্মীর সঙ্গে দেখা করেন বর্ধমান দুর্গাপুরের বিজেপি প্রার্থী। অভিযোগ, গলসিতে শাসক কোন্দলে গত ১০ এপ্রিল জখম হন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী স্বপন মল্লিক। বাড়ি ফেরার পথে তাঁর উপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। আজ তাঁকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন দিলীপ। তা নিয়েই এখন জেলার রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা।
হাসপাতালের বাইরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভাষায় ক্ষোভও উগড়ে দেন দিলীপ। সুর চড়িয়ে বলেন, “সাধারণ গরিব মানুষ কী সর্বদা রাজনীতির বোরে হয়ে থাকবে? টিএমসি-র নেতারা যাকে খুশি মারবে কাটবে শেষ করে দেবে? কেউ কিছু বলতে পারবে না? বললেই তাঁকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেবে! এর থেকে দুর্ভাগ্যের আর কী হতে পারে। আজ ওই কর্মীকে দেখে গেলাম। আমরা তাঁর সঙ্গে থাকব বলেছি। ও যাতে তাড়াতাড়ি সেরে ওঠে সেই প্রার্থনা করব।”
পাল্টা দিয়েছে ঘাসফুল শিবিরও। তৃণমূল মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, উনি যেতেই পারেন। দেখতে আসতেই পারেন। উনি ভোটে দাঁড়িয়েছেন। ভোটের বাজারে এখন সিমপ্যাথী কুড়াতে চাইছেন। আমরা পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত আগে চেয়েছি। আমরা বলেছি যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
প্রসঙ্গত, স্বপন মল্লিকের বাড়ি মনোহরপুর সুজাপুর গ্রামে। সূত্রের খবর, ইদের উপহার দিতে স্ত্রী রূপা মল্লিক ও এক নাতনিকে নিয়ে মেয়ের বাড়ি শিড়রাই গ্রামে গিয়েছিলেন স্বপন। বাইকে ফিরছিলেন নিজের গ্রামে। পথেই তাঁকে লাঠি, টাঙি দিয়ে বেধড়ক মারা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় উঠে আসছে এলাকার আর এক নেতা ইমদাদুল হক মল্লিকের নাম। তার সঙ্গে স্বপনের পুরনো বিবাদ রয়েছে বলে খবর।