Balurghat News: ‘কেস তোল, না হলে…’, সকালে হুমকি-চিঠি, দুপুরে অ্যাসিড হামলা!
Balurghata Acid Attack Case: বছর দুয়েক আগেই মৃত্যু হয় তাঁর। বর্তমানে বৃদ্ধা মা ও মেয়েকে নিয়ে তাঁর সংসার। পরিবারের দাবি, জমি বিক্রি সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁদের পরিবারে বিবাদ চলছিল। এমনকি, হামলার দিন দুপুরেও দুই অপরিচিত যুবক এসে বৃদ্ধা মাকে হুমকি দিয়ে যায়।

দক্ষিণ দিনাজপুর: কয়েক ঘণ্টা আগেই এসেছিল হুমকি চিঠি। কিন্তু তাতে হয়তো বিশেষ গুরুত্ব দেননি সন্তোষী রজক। এরপর মুহূর্তের মধ্যে জীবনের সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন হলেন তিনি। শনিবার দুপুরে নিজের কাজ সেরে টোটোয় চেপে বড় রঘুনাথপুরের বাড়িতে ফিরছিলেন সন্তোষী দেবী। বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের ইউএসজি বিভাগের এক অস্থায়ী কর্মী তিনি।
অভিযোগ, বাড়ি ফেরার পথে রঘুনাথপুর বিএম হাইস্কুলের কাছে পৌঁছাতেই স্কুলের পাঁচিলের আড়াল থেকে আচমকা তাঁকে লক্ষ্য করে অ্যাসিড ছোঁড়া হয়। মুহূর্তেই তাঁর বাম হাত ও বাম পায়ের বেশ কিছুটা অংশ ঝলসে যায়। নষ্ট হয়ে যায় টোটোর কিছুটা অংশ। এমন ঘটনায় নিয়ন্ত্রণ হারান টোটো চালক। মহিলার চিৎকারে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কিন্তু এই হামলার কারণ কী? নেপথ্যে কারা? আক্রান্তের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্তোষী দেবীর স্বামী ছোটন রজক বালুরঘাট শহর আইএনটিটিইউসি-র প্রাক্তন সভাপতি ছিলেন। বছর দুয়েক আগেই মৃত্যু হয় তাঁর। বর্তমানে বৃদ্ধা মা ও মেয়েকে নিয়ে তাঁর সংসার। পরিবারের দাবি, জমি বিক্রি সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁদের পরিবারে বিবাদ চলছিল। এমনকি, হামলার দিন দুপুরেও দুই অপরিচিত যুবক এসে বৃদ্ধা মাকে হুমকি দিয়ে যায়।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে একটি হুমকি চিঠির কথাও। শনিবার হামলা, রবিবার আততায়ীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় দ্বারস্থ হন সন্তোষীর দেবীর মা রামিয়া ভান্ডারি। পুলিশের কাছে সেই হুমকি চিঠির কথা উল্লেখ করেন তিনি। জানান, অ্যাসিড হামলার আগে হাসপাতাল চত্বরে অজ্ঞাত পরিচয়ের কেউ তাঁকে লক্ষ্য করে একটি কাগজ ছুঁড়ে দেয়। তাতে লেখা ছিল, ‘কেস তোল, না হলে এক ঘন্টার মধ্যে মা, মেয়েকে কেটে জলে ফেলে দেব’। এরপরেই অ্যাসিড হামলা।
আক্রান্ত মহিলার মায়ের কথায়, “আমরা খুব আতঙ্কে রয়েছি। এরকম হুমকি, তারপর আমার মেয়েকে লক্ষ্য করে হামলা। আমাদের বাড়িতেও এসেছিল ওই দুষ্কৃতীরা। চিন্তা হচ্ছে।”
