শ্মশানযাত্রী সেজে ডাকাতি শেষে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করল দুষ্কৃতীরা

অপহৃত ওই ব্যবসায়ীর নাম অসীম প্রামাণিক। করদহ এলাকার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী তিনি। করদহ হাইস্কুল এলাকায় রয়েছে তাঁর দোকান। দোকান লাগোয়া বাড়িতে স্ত্রী ও ১২ বছরের ছেলেকে নিয়ে বসবাস করেন ওই ব্যবসায়ী।

শ্মশানযাত্রী সেজে ডাকাতি শেষে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করল দুষ্কৃতীরা
নিজস্ব চিত্র

তপন: শ্মশানযাত্রী সেজে গভীর রাতে রুটি ব্যবসায়ীর বাড়িতে প্রথমে ডাকাতি। তারপর ওই রুটি ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে নিয়ে গেল দুষ্কৃতীরা। শুক্রবার এমন ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন ব্লকের রামচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের করদহ এলাকায়।

জানা গিয়েছে, অপহৃত ওই ব্যবসায়ীর নাম অসীম প্রামাণিক। করদহ এলাকার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী তিনি। করদহ হাইস্কুল এলাকায় রয়েছে তাঁর দোকান। দোকান লাগোয়া বাড়িতে স্ত্রী ও ১২ বছরের ছেলেকে নিয়ে বসবাস করেন ওই ব্যবসায়ী। পরিবার সূত্রে খবর বৃহস্পতিবার রাত্রি ১১টা নাগাদ একটি অচেনা নাম্বার থেকে ফোন আসে ব্যবসায়ীর ফোনে। ফোন করে শ্মশানযাত্রীর পরিচয় দিয়ে রুটি কেনার কথা বলে তারা। রাত হলেও শ্মশানযাত্রী শুনে তাঁদের সাহায্য করতে যান ওই ব্যবসায়ী। কিন্তু দোকানের দরজা খুলে খাবার সামগ্রী দিতে যেতেই তাঁকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে বাড়িতে ঢুকে পড়ে কয়েকজন দুষ্কৃতী।

দিয়ে ব্যবসায়ী ও তাঁর স্ত্রীকে মারধর করে বলেও অভিযোগ। বাড়িতে থাকা টাকা পয়সা, সোনার গয়না লুট করার পাশাপাশি ব্যবসায়ীকেও অপহরণ করে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনার জানাজানি হতেই রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় তপন থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। রাতেই ব্যবসায়ীর খোঁজে তপনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় তপন থানার পুলিশ।

শুক্রবার সকালে ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয় তপন থানায়। অসীমবাবুর স্ত্রী রাখি প্রামাণিক বলেন, “আমার স্বামীকে বার বার ফোন করছিল। শ্মশান যাত্রীর জন্যেই মানবিকতার জন্য দরজা খুলে রুটি দিতে চেয়েছিলাম আমরা। কিন্তু ওরা পিস্তল, চাকু দেখিয়ে মারধর করে। সোনার জিনিস ও টাকাপয়সা কোথায় আছে তা জানতে চায়। এরপর আমাকে বেঁধে রেখে চলে যায়। আমার স্বামীকেও মারধর করে নিয়ে যায়। হয়ত  আমার স্বামী ওদের চিনত। আমি এখন টাকা পয়সা সোনা কিছুই চাইনা। আমার স্বামীকে চাই। পুলিশ তাড়াতাড়ি আমার স্বামীকে খুঁজে বের করুক।”

স্থানীয় এক বাসিন্দা উত্তম প্রামাণিক বলেন,”অসীম খুব ভাল ছেলে। কোনদিন কারও সাথে শত্রুতা ছিল না। তবে এই ঘটনা যারা ঘটিয়েছে। তারা পূর্ব পরিচিত হবে। অসীমের স্ত্রী নাকি শুনতে পেয়েছেন ‘ও তোরা! বলেও ডেকেছে। পুলিশ তদন্ত করে অসীমকে তাড়াতাড়ি বের করুক।”

আরও পড়ুন: ‘মুকুলিত’ ঘাসফুল, ‘ওঁ তুখোড় নেতা’, মন্তব্য রাজু বিস্তার, ‘বেদনাক্রান্ত’ অগ্নিমিত্রা

পুলিশ সুপার রাহুল দে জানান, শুধুমাত্র ডাকাতির ঘটনা মনে হচ্ছে না এটা। পুলিশ জিজ্ঞাবাদ ও তল্লাশি চালাচ্ছে।