
গঙ্গারামপুর: ভোট গণনার পর আতশবাজি ফাটানোকে কেন্দ্র করে তৃণমূল বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষ। ঘটনায় আহত হয়েছিলেন বাবা ও ছেলে। কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হল বাবার। মৃতের নাম জগদীশ বসাক(৬৬)। অন্যদিকে আহত ছেলে জয়ন্ত বসাক(২৮) হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। দু’জনেই বিজেপির কর্মী সমর্থক ছিলেন। তাঁদের বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর থানার বেলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের মহারাজপুর বসাকপাড়ায়। মারধর করার অভিযোগ তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখছে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ। রবিবার কলকাতায় মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয়। সোমবার দুপুরে মরদেহ বাড়িতে আনার কথা রয়েছে। অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
জানা গিয়েছে, বিজেপি ক্ষমতায় আসায় গত মঙ্গলবার আতশবাজি ফাটান মৃতের নাতি। এমনকি জয় শ্রীরাম স্লোগান দেন। আর এতেই স্থানীয় তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা চটে যান। এরপরই এলাকার কয়েকজন তৃণমূল সমর্থক ক্ষুব্ধ হয়ে বসাক পরিবারের বাড়িতে চড়াও হয়। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা জগদীশ বসাকের বাড়ির টিনের গেট ভাঙচুর করার পাশাপাশি তাঁর মাথায় রড দিয়ে আঘাত করে এবং তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। একইসঙ্গে তাঁর ছেলে জয়ন্ত বসাকের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারা হয় বলেও পরিবারের অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করে প্রথমে গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে জগদীশ বসাকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে প্রথমে শিলিগুড়ি ও পরে কলকাতার একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। সেখানেই শনিবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে জয়ন্ত বসাক ছাড়া পেলেও এখনও তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে গঙ্গারামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই চারজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ পিকেটিং রয়েছে।
এবিষয়ে তৃণমূল জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল বলেন, “এটি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে হয়েছে বলেই শুনেছি। পরে রাজনৈতিক রং লাগানো হয়েছে। এখানে রাজনীতি কোনও বিষয় নেই। একজন মারা গিয়েছে শুনলাম। প্রত্যেক মৃত্যুই দুঃখজনক। এই ঘটনায় পুলিশ কয়েকজনকে ধরেছে। আইন আইনের পথে চলুক।” অন্যদিকে এবিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল বলেন, ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনায় আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।