
বংশীহারী: রবিবার মাংস খাবেন। তাই বাজার থেকে মাংস এনেছিলেন। কিন্তু, রান্না করতে গিয়েই বিপত্তি। গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লেগে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হল মা ও ছেলের। রবিবার দুপুরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারী থানার বুনিয়াদপুর পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে। মৃত দু’জনের নাম পুতুল মণ্ডল (৫৫) ও বিপ্লব মণ্ডল (৩৫)। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বংশীহারী থানার পুলিশ। পুলিশ মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে পাঠায়।
বিপ্লব মণ্ডল পেশায় রং মিস্ত্রি ছিলেন। আবার ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতেও যেতেন। বাড়িতে মা ছাড়াও বাবা রয়েছেন। বোনের বিয়ে অনেক দিন আগেই হয়ে গিয়েছে। বিপ্লবের বাবা গুড় তৈরি করেন। রবিবার দুপুরে বাজার থেকে মাংস এনে নিজেই রান্না করতে যান বিপ্লববাবু। গ্যাস জ্বালাতেই সিলিন্ডারে আগুন লেগে যায়। ছেলের গায়ে আগুন লেগেছে নজরে আসতেই মা ছেলেকে বাঁচাতে ঘরের মধ্যে যান। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মা ও ছেলের।
আগুন লাগার বিষয় নজরে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দারা মার্সিবল চালিয়ে আগুন নেভান। তবে গ্যাস সিলিন্ডার ব্লাস্ট করেনি। শুধু রান্নাঘর নয়, বাড়ির অন্যান্য সামগ্রীও আগুনে পুড়ে গিয়েছে। গ্যাস পাইপে লিকেজ থাকার কারণে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে অনুমান। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখছে বংশীহারী থানার পুলিশ। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গঙ্গারামপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক শুভতোষ সরকার।
অগ্নিদগ্ধ হয়ে মা-ছেলের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া। কান্নায় ভেঙে পড়েন আত্মীয় পরিজন ও প্রতিবেশীরা। মৃত পুতুল মণ্ডলের স্বামী বীরেন মণ্ডল বলেন, “”গ্যাসটা লিক করছিল। ছেলে দেশলাই কাঠি জ্বালাতেই গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন ধরে যায়। ওখানেই আমার ছেলে-বউ মারা যায়।” বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। প্রতিবেশীরা বলেন, বীরেন মণ্ডল এখন একা হয়ে গেলেন। সরকারের তরফে যদি কিছু সাহায্য করা হয়, তবে ভালো হয়।