
ইংরেজবাজার : মালদহ জেলার বিধানসভা কেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ইংরেজবাজার। ১৯৫৭ সালে বিধানসভা কেন্দ্রটি গড়ে উঠেছে। মালদহ দক্ষিণ লোকসভা র অন্তর্গত এই কেন্দ্রটি। মালদহ জেলায় একসময় কংগ্রেসেরই আধিপত্য ছিল। মালদহ নামটির সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে প্রয়াত গনি খান চৌধুরী। মালদহে একসময় তাঁরই প্রতিপত্তি ছিল। মালদহকে কংগ্রেসেরই দুর্গ বলা হয়। সেই জেলারই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইংরেজবাজার।
১৯৫৭ থেকে ১৯৬৭ সাল। টানা ১০ বছর ইংরেজবাজার থেকে জয়লাভ করে কংগ্রেস। পরপর তিনবারই বিধায়ক নির্বাচিত হন শান্তি গোপাল সেন। পরবর্তীকালে সত্তরের দশকে বামেদের দখলে চলে যায়। জমি হারায় কংগ্রেস। সিপিআই নেতা বিমল কান্তি দাস এবং পরবর্তীতে সিপিআই(এম) নেতা শৈলেন সরকার দীর্ঘ সময় এই কেন্দ্র থেকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। শৈলেন সরকার ১৯৭৭ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত টানা জিতে বিধায়ক হয়েছে। ১৯৯৬ সাল থেকে বারাবার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে। কখনও এই কেন্দ্রে ক্ষমতায় এসেছে কংগ্রেস, কখনও জমি ফিরে পেয়েছে বামেরা।
২০১১ সালের পালাবদলেও এই কেন্দ্রে ঘাসফুল ফোটাতে পারেনি তৃণমূল। ওই বছরও কংগ্রেসের টিকিটে জেতেন কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। তবে পরে তৃণমূলে যোগ দিলে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যায়। ২০১৩ সালের উপনির্বাচন হলে তিনিই ওই কেন্দ্র থেকে জেতেন। তাঁর হাত ধরেই ভোট বৈতরণী পার করে তৃণমূল। অবশেষে ঘাসফুল ফোটে ইংরেজবাজারে। তবে, ২০১৬ সালে বাম-কংগ্রেস সমর্থিত নির্দল প্রার্থী নিহার রঞ্জন ঘোষ জয়লাভ করে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দেয়। তবে, গত বারের বিধানসভা নির্বাচনে উল্লেখযোগ্যভাবে এই কেন্দ্রে গেরুয়া ঝড় ওঠে। বিজেপির টিকিটে লড়াই করে বিধায়ক হন বিজেপির শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী।
২০২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূল এই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছে আশিস কুণ্ডুকে। তাঁর বিরুদ্ধে লড়বেন বিজেপি প্রার্থী অম্লান ভাদুড়ি। কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন মহম্মদ মাসুদ আলম।