
কলকাতা: কেউ পরিবারের সঙ্গে গিয়েছিলেন। কেউ আবার গিয়েছিলেন বন্ধুদের সঙ্গে। বাঙালি সারা বছর অপেক্ষা করে থাকে পুজোর এই চারটে দিনের জন্যই। কিন্তু এমন বিভীষিকা ঘটে যাবে কেউ কল্পনাও করেননি। চোরবাগানে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে মৃত্যু একই পরিবারের তিনজনের। এখনও অবধি জানা যাচ্ছে, মোট ১৯ জনের প্রাণ চলে গিয়েছে।
কলকাতায় ঠাকুর দেখবেন বলে আরামবাগ থেকে হইহই করে এসেছিল বেজ পরিবার।আরামবাগের বালিয়া থেকে মোট ৯ জন ঠাকুর দেখতে আসেন। যে সময় ঘটনা ঘটেছিল সেই সময় তাঁরা ছিলেন মণ্ডপের মধ্যে। প্রবল বৃষ্টিতে মণ্ডপের একাংশ ভেঙে পড়তেই হইহই শুরু হয়। হুড়োহুড়ি পড়ে যায় বেরিয়ে যাওয়ার জন্য। তখনই পদপিষ্ট হন একাধিক। এদের মধ্যে ছিলেন বেজ পরিবারের তিন সদস্য। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, মৃতদের নাম টগর বেজ ৪২, বছর ৭-এর সন্দীপ বেজ ও বছর ২৮ এর পিয়ালী প্রামাণিক।
মৃতের পরিবারের এক সদস্য বলেন, “আমার বোনঝির বয়স ২৪ বছর হবে। আর একটা বাচ্চা ছিল আর তার মা ছিল। আমাদের একই পরিবারের তিনজন মারা গিয়েছে।” আরও একজন বলেন, “ফোনে কথা বলছিল। জানাল ঠাকুর দেখতে গিয়েছে। পরে শুনছি এই অবস্থা।”
গতকালের ঘটনার পর প্রত্যক্ষদর্শী এক দর্শনার্থী বলেন,”এখানে হাজার হাজার ভলান্টিয়র, পুলিশ ছিল। কিন্তু কোনও ব্যবস্থাই প্রথমে নেওয়া হচ্ছিল না। এত বড় ঘটনা ঘটছে. চোখের সামনে দেখছে। কলকাতা পুলিশের গাড়ি দাঁড়িয়েছিল, পুলিশ কিছু করেনি। আমরা লোকালরাই করে গিয়েছি। পুজো কমিটির কোনও লোককেই দেখা যায়নি।” এমনকি ওখানে কোনও অ্যাম্বুলেন্সেরও ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।