
শ্রীরামপুর: হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে হুগলির শ্রীরামপুরে সভা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সঙ্গে রয়েছেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া উপস্থিত আছেন রয়েছেন প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার ও দোলা সেনরা। সেখান থেকে বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
এক নজরে যা যা বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
পুলিশকে বার্তা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আমি আসার খবর পেয়েছি উত্তরপাড়া, জিটি রোড জ্যাম করে রেখেছে। এই এলাকা থেকে ১৫০ থেকে ২০০ জনকে গ্রেফতার করেছে। ছোট্ট একটা মেয়ে টুম্পাই তাকে গ্রেফতার করব। মনে রাখবেন আজ ভ্যানিশ কুমারকে যেমন ধরেছি, যাঁরা অন্যায় করছে তাঁদের নাম রেকর্ড আছে। যখন ফাঁসবেন তখন বিজেপির লুম্পেনদের পাবে না। তখন আপনার চেয়ার ও পরিবার বিপদে পড়বে। এটা চাই না আমি। আপনাদের এই হানিমুন পিরিয়ডে… না না এটা হানিমুন পিরিয়ড নয় মানিমুন পিরিয়ড। আমায় বাড়ি থেকে বেরতে দেয় না। কল্যাণকে ধন্যবাদ। কোর্টে গিয়ে মাননীয় বিচারপতির অনুমতি নিয়ে এসেছেন। কেন অন্য দলের স্বাধীনতা থাকবে না সভা করার। মনে রাখবেন দিল্লি কিন্তু টলমল। মনে রাখবেন ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।
এসআইআর নিয়ে প্রতিবাদ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: SIR-এ প্রচুর মানুষের নাম বাদ দিয়েছে। সীমা খান্না AI দিয়ে নাম বাদ দিয়েছে। বস্তায় করে করে ৭ লক্ষ নাম ডিলিট করেছে। বাংলা থেকে মোট ৯২ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছে। গোটা দেশে ১৩ কোটি মানুষ বলি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: গরিব হকারদের চাকরি খাচ্ছেন। লক্ষাধিক মানুষকে বেকার করেছেন। আমি হকারদের কেস নিয়ে লড়ব। এদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তোমরা যে অত্যাচার করছ বিজেপি জবাব পাবে। ভ্যানিশ কুমার নাম প্রথম আমি দিয়েছি। কারণ, সকলের নাম ভ্যানিশ করে দিচ্ছিলেন। একজন মাকে অক্সিজেন নিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনা কেউ পায় আর পায় না, ভোটের আগে তো বলেননি। তখন সবাই পাবে বলে ফর্ম ফিলাপ করান। তখন বলেননি কেন? লক্ষ্মীর ভাণ্ডার তো সকলে পেত। এখন বলছে সাইকেল থাকলে দেব না, এই থাকলে দেব না ওই থাকলে দেব না। কখন বলবে জামা কাপড় থাকলে দেব না।
সব থেকে বেশি অন্যায় করছে পুলিশ। ওদের দোষ নয়। ওদের দিয়ে করানো হচ্ছে। নির্দেশ দিন মানুষকে ভাল থাকার।
মিষ্টির দোকান , বিরিয়ানির দোকানেও টাকা চাইছে। হিন্দু-মুসলিম সকলের উপর অত্যাচার করছে।
নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে কেন গ্রেফতার করা হল? ভূমি আন্দোলনের সঙ্গে আমিও যুক্ত ছিলাম। আমরা কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করেছিলাম ওর মেয়ে যে প্রশ্ন করেছে সেটা সত্যি।
আমরা কিন্তু হারিনি। প্রথম দিন থেকে বলছি। আমাদের জোর করে হারানো হয়েছে। কাউন্টিং থেকে বুথ এজেন্ট সকলে মিলে এই করেছে।
ইভিএম মেশিন হাইজ্যাক করেছে। মিডিয়াকে টাকা দিয়ে মিথ্যা খবর করেছে। সেটাও বেরিয়েছে। আস্তে আস্তে সব বেরিয়ে যাবে। বিহার-বাংলা-হরিয়ানাতে করেছে। আমি এখনও মনে করি ভ্যানিশ কুমারের পদত্যাগ। যতদিন না যাবে ততদিন আন্দোলন চলবে। মানুষের ভোট কাড়ার অধিকার কারও নেই। যাঁরা নারদ-নারদ করে তাঁরাও গারদে যাবে।
জোর করে চেয়ার দখল করেছেন। আমরা কেয়ার করি না । আমরা মানুষের আদালতে যাবআপনারা বাংলা নিয়েছেন আমরা দিল্লি নেব। চারিদিকে ঝড় উঠেছে। সবাই রাস্তায় নামবে। মুম্বইস,দিল্লিতে ঝড় তোমাদের ঘরেও ঝড় উঠেছে। অপেক্ষা করো ফল পাবে। মানুষের ভাষা পরিচয়। আপনাদের ভাষা কী? কোনও ভাষা শেখননি। আমরা তো ভুল হলেও ইংরেজি-উর্দু বলতে পারি।
বলছে আজাদি বললেই গ্রেফতার করব। আমরা তো আজাদি বলবই। আর আজাদি মানেই স্বাধীনতা।
দশমির পড়ে আমরা মিষ্টি খাওয়াব না। মানুষের ঘরে ঘরে হাহাকার। তা হবে না…এই পরব কাটার পর আর একটা দশমি করব আমরা।
যে পার্টি এই ইস্যুতে সমর্থন করবে। কে লাল কে নীল দেখব না। আমরা তাদের সমর্থন করব। আমি সকলকে বলব গ্রেফতারের জন্য তৈরি থাকুন। ভয় ভাঙুন। মুখ খুলুন, কথা বলুন, জোট বাঁধুন। যে STF-কে চোখে দেখা যেত না, CID-কে চোখে দেখা যেত না তাঁদের বড় বড় কথা।
আমায় আঘাত করলে প্রত্যাঘাত করতে পারি। এখন ভরসা আউট, ভয় ইন। বাংলা জোর করে দখল করেছেন।
আমায় মিস্টার বেবি চিঠি দেন। বলেছিলেন, একসঙ্গে বসি এই সময়ে। আমি বলেছি অবশ্যই। আগামী ৩০ তারিখ বৈঠক হবে। কংগ্রেসের সঙ্গেও বৈঠক হবে।
গোটা দেশে জন্মদিন পালন করছে। কেন করবেন?আপনাদের পার্টি থেকে করুন।