
হুগলি: জল্পনা চলছিলই। শেষ পর্যন্ত আরাবুল ইসলামকে প্রার্থী করল আইএসএফ। নওশাদ দাঁড়ালেন ভাঙড়েই। দাঁড়িয়েই সোজা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের দিকে। শুধু তাই নয়, আইএসএফের প্রার্থী তালিকায় একের পর এক চমক। তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফে যোগ দিয়েই দেগঙ্গায় প্রার্থী হলেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ মফিদুল হক সাহাজি। প্রথম পর্যায়ে ২৩ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল আইএসএফ।
ইতিমধ্যেই ক্যানিং পূর্ব থেকে শওকত মোল্লাকে সরিয়ে ভাঙড়ে প্রার্থী করেছে দল। ক্যানিং পূর্বে এবার ভাঙড়ের নেতা বাহারুলকে দাঁড় করিছে তৃণমূল। যদিও শওকত অনুগামীদের বড় অংশই তারপর ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন। তাঁদের অনেকেই বলছিলেন কোনওভাবেই তাঁরা বহিরাগত প্রার্থীকে মানছেন না। বিক্ষোভও হয়েছিল বিস্তর। যদিও এখনও এবার সেই ক্যানিং পূর্বে আরাবুলকে নিয়ে চলে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
তবে ভাঙড়ে শওকত-নওশাদের লড়াই যে এবারের ভোটে অন্য মাত্রা পেতে চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। গত পাঁচ বছর ধরে নওশাদ শিবির আর শওকতের শিবিরের লড়াই বার বার খবরের শিরনামে এসেছে। ঝরেছে রক্ত, তপ্ত হয়েছে রাজনৈতিক আঙিনা। রাজনৈতিক মহলের অনেকেই বলছেন, এবারের ভোটে ভবানীপুর যদি এপিসেন্টার হয় তবে ভাঙড় অবশ্যই রণক্ষেত্র। ভাঙরে শওকত প্রার্থী হলেও তিনি আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন।
অন্যদিকে বিগত কয়েক বছরে ভাঙড়ে আরাবুলের প্রভাবও নেহাৎ কম ছিল না। প্রায়শই আরাবুল-শওকত দ্বন্দ্বের খবরও সামনে এসেছে। কিছুদিন আগেই তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফে যোগ দেন আরাবুল। তখনও যদিও তার মুখে বারবারই শোনা গিয়েছে অভিমানের সুর। এবার তাঁকেই ক্যানিং পূর্বে লড়াইয়ের ময়দানে নামিয়ে দিয়েছে আইএসএফ।