
খানাকুল: নির্বাচনের আবহে এবার নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকী। শুক্রবার হুগলির খানাকুলে বাম সমর্থিত আইএসএফ প্রার্থী সাদ্দাম হোসেনের সমর্থনে একটি বিশাল রোড-শোয়ে অংশ নেন তিনি। সেখান থেকেই তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনকে সামনে রেখে তৃণমূল এবং বিজেপি আসলে ‘সেটিং’-এর রাজনীতি করছে।
এদিন প্রচার চলাকালীন নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, “বিজেপি এবং তৃণমূল মিলে নির্বাচন কমিশনকে সামনে রেখে এক অদ্ভুত খেলা খেলছে। রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি যা তৈরি হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষ নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছেন। আমার ভয় হচ্ছে, জনগন শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনকেই বয়কট না করে দেয়!”
২০২১-এর নির্বাচনের তুলনায় এবারের সমীকরণ যে অনেকটাই আলাদা, তা নওশাদের বক্তব্যে স্পষ্ট। তিনি দাবি করেন, “গত বিধানসভা নির্বাচনে মানুষ আমাদের ঠিকমতো বুঝতে পারেনি। কিন্তু এবার চিত্রটা বদলে গিয়েছে। তৃণমূলের দুর্নীতি আর বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতি থেকে বাঁচতে মানুষ এখন বিকল্প খুঁজছে। এবার গোটা রাজ্যে বাম ও আইএসএফ জোটের প্রার্থীরা অনেক বেশি আসনে জয়লাভ করবেন।” প্রসঙ্গত, শেষ বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল আইএসএফ। তৈরি হয়েছিল সংযুক্ত মোর্চা। যদিও মোর্চার একমাত্র নয়নের মণি হয়ে মুখ রক্ষা করেছিলেন শুধু নওশাদ। জিতেছিলেন ভাঙড় থেকে। তবে এবার ভাঙড়ের লড়াইটা যে আরও শক্ত তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া হুমায়ুন কবীরের ‘১০০০ কোটির ডিলের’ ভিডিয়ো নিয়েও মুখ খোলেন নওশাদ। তাঁর সাফ কথা, “ওই ভিডিয়োর সত্যতা যদি প্রমাণিত হয়, তবে বাংলার মানুষ কোনওভাবেই এই ধরনের বিশ্বাসঘাতকতাকে ক্ষমা করবে না।” তাঁর মতে, সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে যারা দরাদরি করে, তাদের জায়গা বাংলার মাটিতে হবে না। এদিন খানাকুলের রাজহাটি থেকে রামপ্রসাদ পর্যন্ত দীর্ঘ পথজুড়ে সাদ্দাম হোসেনের সমর্থনে হুডখোলা গাড়িতে রোড-শো করেন নওশাদ সিদ্দিকী। মিছিলে কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।