
আরামবাগ: কম উৎপাদন হওয়ায় অনেক সময় বিপদে পড়তে হয় আলুচাষিদের। খরচ একই থাকলেও উৎপাদন কম হলে, সব শেষে ক্ষতির মুখই দেখতে হয় কৃষকদের (Potato Farmers)। তবে এবার ছবিটা উল্টো। এবার ১০০-র বদলে ২০০ বস্তা অর্থাৎ প্রায় দ্বিগুণ আলু উৎপন্ন হয়েছে। তাতেও আরও বিপদে পড়েছেন কৃষকরা। আলুর দামে এতটাই ধস নেমেছে যে বন্ড বিক্রি করেও লোকসানে আরামবাগের (Arambagh) চাষিরা।
হাইব্রিড বীজ চাষিদের কাছে চলে আসায় উৎপাদন বেড়েছে। ভারতের আলু উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গ দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন ও হিমঘরে মজুত রাখার খরচও তুলতে পারছেন না চাষিরা। এমনই ছবি দেখা যাচ্ছে হুগলির আরামবাগের বিভিন্ন হিমঘরে।
চাষিদের দাবি, মাঠ থেকে হিমঘরে আলু পৌঁছনো পর্যন্ত অর্থাৎ বস্তা বা পরিবহনসহ নানা খরচ মিলিয়ে বস্তাপিছু প্রায় ৯০ টাকা করে খরচ হয়েছে। অথচ সেই আলুর বন্ড ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে বর্তমানে বস্তাপিছু মাত্র ১০০ থেকে ১২০ টাকা মিলছে। ফলে বস্তাপিছু হাতে থাকছে মাত্র ১০ থেকে ৩০ টাকা।
এই পরিস্থিতিতে কৃষকরা বলছেন, “এবার দুয়ারে দুয়ারে ভিক্ষা করতে হবে। কেউ খেতে দিলে খাব, না হলে না খেয়ে মরব।” সরকারের মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, সরকার সাহায্য করুক, তবেই টাকার মুখ দেখতে পাবেন তাঁরা।
চাষি ও ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, এবছর হাইব্রিড আলুর বীজ এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন অনেকটাই বেড়েছে। সাধারণত কাঠাপ্রতি ৫ থেকে ৬ বস্তা আলু উৎপাদন হলেও এবছর তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ১০ থেকে ১২ বস্তা। ফলে বিঘাপ্রতি যেখানে ১০০ থেকে ১২০ বস্তা আলু উৎপাদন হতো, সেখানে এবছর উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৮০ থেকে ২০০ বস্তা। ফলে বাজারে চাহিদার তুলনায় আলুর জোগান বেড়ে যাওয়ায় দামেও বড়সড় পতন হয়েছে।
চাষিদের বক্তব্য, আলু উৎপাদনের সময় মাঠে বস্তাবিহীন আলুর দাম ৪০ টাকা পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল। বাধ্য হয়ে চাষিরা চড়া দামে বস্তা কিনে, পরিবহন খরচ দিয়ে আলু হিমঘরে মজুত করেন। এখন সেই আলুর বন্ড বিক্রি করতে গিয়েই সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত গত চার মাসে হিমঘর থেকে প্রায় ৩৯ শতাংশ আলু বের হয়েছে। এখনও প্রায় ১২ কোটি প্যাকেট আলু হিমঘরে মজুত রয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, আগামী চার মাসে এই বিপুল পরিমাণ আলু হিমঘর থেকে বের করা সম্ভব হবে না। চাষিদের দাবি, আলু উৎপাদনে বিঘাপ্রতি কমবেশি ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। অথচ বর্তমানে সেই আলু বিক্রি করে বিঘাপ্রতি মাত্র ২ থেকে ৩ হাজার টাকা হাতে আসছে। ফলে চাষিদের বড় অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।
আলুর বাজার নিয়ে ব্যবসায়ীরাও সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, আগের বছরগুলিতে আলু বিপণনের ক্ষেত্রে রাজ্যের সীমানা বন্ধ করে দেওয়ায় পরপর দুই বছর ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। এর প্রভাব পড়েছিল চাষিদের উপরেও। এবার অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে ফের একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চাষি ও ব্যবসায়ীদের আবেদন, আলুর বিপণন ব্যবস্থার দিকে সরকার নজর দিক এবং হিমঘরে মজুত আলু দ্রুত বাজারজাত করার ব্যবস্থা করা হোক। না হলে আগামিদিনে চাষি ও ব্যবসায়ী উভয়েই আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা তাঁদের।