
হুগলি: ব্যাঙ্কের কাজে দুপুরে বেরিয়েছিলেন বাড়ির বাসিন্দারা। কাজ মিটিয়ে চার ঘন্টা পর বাড়ি ফিরে দেখেন বাড়ির দরজার তালা ভাঙা, ঘরের আলমারি খোলা। ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কাগজপত্র, খোয়া গিয়েছে সোনা রুপোর অলঙ্কার। হুগলির ব্যান্ডেলের কোদালিয়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১২০ নম্বর বুথের ঘটনায়। এমন চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত এলাকাবাসী।
বাড়ির মালিক পার্থ চৌধুরী জানান, তিনি এবং তাঁর স্ত্রী দুজনেই এই বাড়িতে থাকতেন। মঙ্গলবার দুপুরে ব্যাঙ্কের একটি কাজে একটু বাড়ির বাইরে বেরিয়েছিলেন তাঁরা। সন্ধ্যেয় বাড়ি ফিরে তাঁরা দেখেন, বাইরের যে মেইন লোহার গেটের বাইরে থেকে তালা দিয়ে গিয়েছিলেন, সেটা তেমনই ছিল। সেই তালা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে দেখেন ভিতরের দরজা খোলা। এরপরে ঘরে ঢুকে দেখেন তাঁর বেডরুমের দরজার কড়া ভাঙা।
বেডরুমে ঢুকে তাঁদের মাথায় হাত। ভিতরে ছড়িয়ে রয়েছে চিঠি, কাগজপত্র থেকে ফাইল সব কিছু। পার্থ জানান, মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য বাড়ির বাইরে গিয়েছিলেন তিনি। তাই প্রতিদিনের মতো আলমারির চাবি বিছানার জাজিমের তলাতেই ছিল। সেখান থেকে চাবি নিয়ে আলমারি খুলে সোনা, রুপোর অলঙ্কার চুরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
আনুমানিক দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকার অলঙ্কার চুরি গিয়েছে বলে জানান পার্থ। পাশাপাশি তিনি এলাকার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এলাকায় কোনও সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা নেই। পুলিশি টহল প্রতিনিয়ত সময় মত হয় না বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এর আগে বেশ কয়েক মাস আগে পাশেই একটি বাড়িতে রাতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।
বাড়ির কর্ত্রী সুপ্রিয়া দাশগুপ্ত চৌধুরী বলেন, “মাত্র কয়েক ঘন্টার জন্য বেরিয়েছি, তাতে এত বড় ক্ষতি হবে ভাবতে পারিনি। তবে চোরেরা শুধু মাত্র সোনা, রুপোর অলঙ্কার নিয়ে গিয়েছে। টিভি, ক্যামেরা, ল্যাপটপ এগুলো কিছুতে হাত দেয়নি। এই ঘটনায় আতঙ্কে আছি।” কোদালিয়া ২ পঞ্চায়েতের সিপিএম সদস্য শুভঙ্কর রাহা পুলিশের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তিনি জানান এর আগে এই ঘটনা ঘটেছে পাশের একটা বাড়িতে। তারপরে পুলিশ কিছুটা সক্রিয় হয়েছিল। কিন্তু আবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। চুরির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করেছে ব্যান্ডেল ফাঁড়ির পুলিশ।