
হুগলি: ভোট প্রচারে কোমায় থাকা তৃণমূল সদস্যার বাড়িতে পৌঁছে গেলেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর বক্তব্য, নিজের দলের সদস্যের পাশেই থাকছে না তৃণমূল, সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে কী করে! তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়কের জবাব, “আমরা কী করেছি, সেটা ওর পরিবার জানে।” প্রসঙ্গত, দেড় বছর ধরে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্যা অপর্ণা পাত্রের বাড়িতে গেলেন সপ্তগ্রামের বিজেপি প্রার্থী স্বরাজ ঘোষ।
অপর্ণার বাবা রবীন মাঝির অভিযোগ, স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকলেও চিকিৎসা মিলছে না। চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদারের কাছে গেলে তিনি বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। চিকিৎসকের গাফিলতির কারণেই মেয়ের এই দুরবস্থা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে ইতিমধ্যেই নিজের গাড়ি ও জমি পর্যন্ত বিক্রি করে দিয়েছেন বাবা। মা ববিতা মাঝির চোখের জল যেন থামতেই চাইছে না।
অপর্ণার মা জানান, সুগন্ধা অঞ্চলে টোটন পাত্রের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে হয়েছিল। “২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি অপর্ণা চুঁচুড়ার একটি নার্সিংহোমে কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়, সেই সন্তান জন্ম দিতে গিয়েই মেয়ে আমার কোমায় চলে যায়। চিকিৎসকের গাফিলতিতে এই ঘটনা হয়েছে।”
বাড়িতেই হাসপাতালের মতো করে একটি বেড বানিয়ে রাখা হয়েছে। আর্থিক অনটনের কারণে ওষুধ কেনাও দুস্কর হয়ে পড়েছে। চুঁচুড়া বিধানসভার সুগন্ধা পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্যা অপর্ণা পাত্র।
তাঁর বাবার বাড়ি সপ্তগ্রাম বিধানসভার মহানাদ গ্রামে। সেই বাড়িতে পৌঁছন সপ্তগ্রাম বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী স্বরাজ ঘোষ। কর্মীদের নিয়ে তিনি পরিবারের পাশে দাঁড়ান এবং আশ্বাস দেন যে অপর্ণার চিকিৎসায় তিনি সাহায্য করবেন।
স্বরাজ ঘোষ বলেন, “মানবতা সবচেয়ে বড়। আমি বিজেপির প্রার্থী হলেও আমার দায়িত্ব দুঃখে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সে যে দলেই থাকুক না কেন।” তিনি প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদারকেও কটাক্ষ করে বলেন, “নিজের দলের একজন সদস্যার পাশে দাঁড়াতে পারছেন না, অথচ বড় বড় কথা বলেন।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের দুর্নীতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ এখন সব বুঝে গিয়েছে এবং পরিবর্তন হবেই।
অসিত মজুমদার বলেন, “অপর্ণার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখের যন্ত্রণার। অপর্ণার জন্য আমরা অনেক কিছু করেছি সেটার পরিবার জানে। বিজেপি যা পারে করুক। ওর বাড়ি গেছে বেশ করেছে।”