Jalpaiguri News: ‘জোরে শব্দ, বাইরে দেখি মুখে কাপড় ঢাকা, তারপরই গুলি চালায়!’ মমতাপন্থী কাউন্সিলরদের হুমকির অভিযোগ
Jalpaiguri Municipal Board Formation: জলপাইগুড়ি পৌরসভার মমতাপন্থী কাউন্সিলর তপন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, আগ্নেয়াস্ত্র সমেত বেশ কিছু দুষ্কৃতি হাজির হয়। হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। শুধু তাঁর বাড়ি নয়, আরও এরকম মমতাপন্থীদের বাড়িতে যায় ওই একই গ্যাং। আতঙ্কিত কাউন্সিলরদের পরিবারও।

জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়িতে পুরবোর্ড গঠনের আগে ভয় দেখানোর রাজনীতির অভিযোগ উঠল। বাড়ি এসে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন মমতাপন্থী কাউন্সিলররা। অভিযোগ, বাড়ির সামনে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁদের মুখ কাপড়ে ঢাকা ছিল। রাস্তায় দাঁড়িয়েই হুমকি দেওয়ার পর দুই রাউন্ড গুলিও ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। সিসিটিভি ফুটেজেও ধরা পড়েছে সেই ছবি। উল্লেখ্য, আজ আদালতের নির্দেশে জলপাইগুড়ি পুরসভার বোর্ড গঠন করবে মমতাপন্থী শিবির। তার আগে এই ঘটনায় আতঙ্কিত কাউন্সিলর ও তাঁর পরিবার। এদিকে, এই ঘটনায় ঋত শিবির (গণতান্ত্রিক তৃণমূল) ও বিজেপিকে নিশানা করেছেন মমতাপন্থীরা। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তাঁরা।
জলপাইগুড়ি পৌরসভার মমতাপন্থী কাউন্সিলর তপন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, আগ্নেয়াস্ত্র সমেত বেশ কিছু দুষ্কৃতি হাজির হয়। হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। শুধু তাঁর বাড়ি নয়, আরও এরকম মমতাপন্থীদের বাড়িতে যায় ওই একই গ্যাং। এই বিষয়ে তপনবাবু বলেন, “আমার বাড়িতে এরকম কিছু দুষ্কৃতী আগ্নেয়াস্ত্র সমেত বাড়িতে উপস্থিত হয়। শুধু আমার বাড়ি নয়। পরে খবর পেলাম যে আমাদের সহকর্মী উত্তম বোস, লোপা মুদ্রা অধিকারী, তারকনাথ দাস-সহ আরও অনেকের বাড়িতে এই গ্যাংটাই গিয়েছে। গিয়ে গিয়ে তাঁরা আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখাচ্ছে যে আজ বোর্ড গঠন প্রক্রিয়ায় যেন না যাওয়া হয়।”
আতঙ্কিত কাউন্সিলরদের পরিবারও। পরিবারের এক সদস্যের দাবি, “একটু পরে জোরে শব্দ হল আর সব ভেঙে পড়ে গেল। তখন আমি দেখার জন্য ব্যালকনিতে বেরিয়েছিলাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম কারা এসছ, কেন এসছ। তখন এগিয়ে এসে বলল কাল যখন বোর্ড গঠন হবে, সেই বোর্ড গঠনে যেন দাদা না যায়। আমরা কিন্তু বলে গেলাম, তা না হলে এর থেকেও খারাপ হবে। যে এসছিল, মুখটা ঢাকা। স্যান্ডো গেঞ্জি পরেছিল। তারপর উপরে ফায়ার করল। আমি তারপর নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছি। এটা রাজনীতিই তো।”
এই বিষয়ে মমতা তৃণমূল নেতা গৌতম দেব বলেন, “ওখানে আমাদের যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাঁদের সঙ্গে আমি কথা বলব। জলপাইগুড়ি শান্তিপ্রিয় জায়গা। আমার এটাই আবেদন থাকবে যে জলপাইগুড়িতে এই শান্তি ও পরম্পরা বজায় রাখা উচিত। এর বাইরে কোনও কিছু হওয়া উচিত নয়।”
বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “জলপাইগুড়িতে পুরো বোর্ড গঠন বা ইত্যাদি নিয়ে আমরা এই প্রক্রিয়ার মধ্যে কোনওভাবেই ইনভলভড হইনি বা আমরা এটা নিয়ে যে খুব উদ্বিগ্ন বা উৎসাহী তা নয়। আমি জানি যে এই বিষয়টার উপর নজর রাখবে পুলিশ।”
বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গা বলেন, “কেউ যদি বিজেপির দিকে আঙুল তুলে থাকে তাহলে ভারতীয় জনতাপার্টি কখনও কোনও হিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। যে দলের কোনও প্রতীক নেই। নির্বাচন কমিশন যে প্রতীককে ফ্রিজ করে দিয়েছে, সেই দল আবার বলবে আমরা বোর্ড গঠন করব।”
