
হলদিবাড়ি: লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই মেখলিগঞ্জ বিধানসভায় রাজনীতির ময়দানে বড়সড় বদল। এবার তৃণমূল পরিচালিত হলদিবাড়ি পৌরসভায় বিজেপির থাবা। বুধবার রাতে ঘাসফুল ছেড়ে পদ্ম পতাকা হাতে তুলে নিলেন হলদিবাড়ি পৌরসভার কাউন্সিলর পুরবী রায় প্রধান। এর ফলে ১১ আসন বিশিষ্ট হলদিবাড়ি পৌরবোর্ডে তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্যে ধরে গেল ফাটল।
ঘটনার সূত্রপাত কিন্তু কয়েকদিন আগে। সম্প্রতি মেখলিগঞ্জের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান কলকাতায় বিজেপির রাজ্য দফতরে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন। পতাকা নিয়েছিলেন একেবারে বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হাত থেকে। তখন থেকেই জল্পনা চলছিল তাঁর স্ত্রী তথা বর্তমান কাউন্সিলর পুরবী দেবীকে নিয়ে। বুধবার রাতে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপী গোস্বামীর হাত থেকে বিজেপির পতাকা তুলে নিলেন তিনি।
হলদিবাড়ি পৌরসভার মোট আসন সংখ্যা ১১টি। গত পৌর নির্বাচনে সবকটি আসনেই জয়লাভ করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু পুরবী রায় প্রধানের দলবদলের ফলে এই প্রথমবার ওই পৌরবোর্ডে ঢুকে পড়ল বিজেপি। ভোটের ঠিক আগে এই ঘটনা মেখলিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল শিবিরে অস্বস্তি বাড়াবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। দলবদল নিয়ে ফের একবার পুরোদমে চর্চা শুরু হয়েছে জেলার রাজনৈতিক আঙিনায়।
এই দলবদলকে অবশ্য বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা, অর্ঘ্য ও পুরবী উভয়ই ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁদের দলত্যাগে সংগঠনে কোনও প্রভাব পড়বে না। আঁচ পড়বে না আসন্ন নির্বাচনে মেখলিগঞ্জ বিধানসভায় তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্কেও। অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, তৃণমূলের প্রতি মানুষের মোহভঙ্গ হচ্ছে। তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এই লাগাতার দলবদলে।