Humayun Kabir Property: কলকাতায় ফ্ল্যাট, গ্যারাজে গাড়ি, কত লক্ষের সম্পত্তির মালিক হুমায়ুন কবীর?
Humayun Kabir: আয় যাই হোক, হুমায়ুনের বিনিয়োগের অঙ্ক কিন্তু অনেকটাই বেশি। ৪ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকার একটি জীবনবিমা ছিল তাঁর নামে। অপর একটি বিমার অঙ্ক ১ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা। ৩ লক্ষ ও ২ লক্ষ টাকার আরও দুটি বিমার কথাও উল্লেখ আছে হলফনামায়।

প্রথমে দল থেকে সাসপেন্ড, তারপরই বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। আর এবার নতুন দল ঘোষণা করার পালা। বিধানসভা নির্বাচনের আগে শিরোনামে হুমায়ুন কবীর। ২০২১-এ মুর্শিদাবাদের ভরতপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন। আসন্ন নির্বাচনে কোন পথে হাঁটেন, সেদিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। তার আগে বাবরি মসজিদের জন্য কোটি কোটি টাকা অনুদান আসছে তাঁর কাছে। পেশায় ব্যবসায়ী সেই হুমায়ুনের নিজের সম্পত্তি কত জানেন?
২০২১-এ ভোটে লড়ার সময় নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামায় যে তথ্য দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর, তার নিরিখে হুমায়ুনের সম্পত্তির হিসেব রইল।
কত আয় হুমায়ুনের?
২০১৫-১৬-তে হুমায়ুন আয় করেছেন ২ লক্ষ ৬৯ হাজার ২৪০ টাকা। ২০১৬-১৭-তে সেই আয় বেড়ে হয় ৪ লক্ষ ২ হাজার ৫৭০ টাকা, ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে সেটা আরও কিছুটা বেড়ে হয় ৪ লক্ষ ২১ হাজার ৭০। ২০১৮-১৯-এ আয় ছিল ৩ লক্ষ ২০ হাজার ৭৩০। আর ২০১৯-২০২০ অর্থবর্ষে অর্থাৎ বিধানসভা ভোটের ঠিক আগের বছর তাঁর আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ লক্ষ ৮৭ হাজার ৬৬০।
তথ্য বলছে, শুধু হুমায়ুন নয়, তাঁর স্ত্রীও আয় করেন লক্ষ লক্ষ টাকা। বিধায়কের স্ত্রী মীরা সুলতানা ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে আয় করেছেন ৪ লক্ষ ৯৯ হাজার ৩৬০ টাকা। পরের বছর অর্থাৎ ২০১৬-১৭ অর্থ বছরেও আয় করেছেন ৪ লক্ষ ৫৭ হাজার ৮৭০ টাকা। ২০১৭-১৮ তে ৪ লক্ষ ৬৮ হাজার ২১৯ টাকা, ২০১৮-১৯ এ ৩ লক্ষ ২১ হাজার ১৮০ টাকা ও ২০১৯-২০ তে ৩ লক্ষ ৮৮ হাজার ৬৫৪ টাকা আয় করেছেন মীরা।
ছেলের আয়ও নেহাত কম নয়। বর্তমানে পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ, হুমায়ুন-পুত্র গোলাম নবী আজাদের আয় বছরে গড়ে প্রায় ৩ লক্ষ। ২০১৯-২০-তে তাঁর আয় ছিল ৩ লক্ষ ৪৯ হাজার ৪০ টাকা।
অস্থাবর সম্পত্তি
২০২১-এ দেওয়া হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, হুমায়ুনের হাতে ছিল নগদ ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। তাঁর স্ত্রীর হাতে ছিল ২৫ হাজার টাকা।
হুমায়ুনের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ২৮ হাজার টাকা, অপর কয়েকটি অ্যাকাউন্টে যথাক্রমে ৩ হাজার ৮৭০ টাকা, ৮১২ টাকা ও ৭ হাজার ৫৪৩ টাকা ছিল। এছাড়া পেনশন অ্যাকাউন্টে ছিল ১৭২৬ টাকা।
তবে স্ত্রী মীরার অ্যাকাউন্টে টাকার অঙ্ক অনেকটা বেশি। মীরা সুলতানার অ্যাকাউন্টে দুটি অ্যাকাউন্টে ছিল যথাক্রমে ২ লক্ষ ৮৬ হাজার টাকা ও ৪৪ হাজার টাকা।
কত বিনিয়োগ করেছেন হুমায়ুন
আয় যাই হোক, হুমায়ুনের বিনিয়োগের অঙ্ক কিন্তু অনেকটাই বেশি। ৪ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকার একটি জীবনবিমা ছিল তাঁর নামে। অপর একটি বিমার অঙ্ক ১ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা। ৩ লক্ষ ও ২ লক্ষ টাকার আরও দুটি বিমার কথাও উল্লেখ আছে হলফনামায়। ৫০ হাজার টাকার করে তিনটি এলআইসি ছিল হুমায়ুনের। ৪ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকার একটি লোন নিয়েছিলেন তিনি।
গাড়ি-সোনা
৪ লক্ষ টাকার একটি টাটা সাফারি গাড়ি রয়েছে হুমায়ুনের নামে, স্ত্রীর নামে রয়েছে একটি জেসিবি, যার মূল্য ৮ লক্ষ টাকা। হুমায়ুনের নামে রয়েছে ৩ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকার সম্পত্তি আর স্ত্রীর নামে রয়েছে ১৯ লক্ষ ১৫ হাজার টাকার সোনা।
২০২১-এর হিসেব বলছে হুমায়ুনের নামে থাকা মোট সম্পত্তির পরিমাণ ২৭ লক্ষ ১০ হাজার ৪৩০ টাকা ও তাঁর স্ত্রীর কাছে থাকা সম্পত্তির অঙ্ক ৩০ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা।
স্থাবর সম্পত্তি
হুমায়ুনের নামে রয়েছে ১.৭ একর জমি। রেজিনগরে দুটি ও বহরমপুরে একটি জমি রয়েছে তাঁর। একটি জমির দাম ৮ লক্ষ টাকা, একটি ৪ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা ও আর একটি ১ লক্ষ টাকার জমি রয়েছে। কলকাতার রাজারহাটে ও কলিন স্ট্রিটে দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে হুমায়ুনের। ২০২১ সালে ফ্ল্যাট দুটির মূল্য ছিল আনুমানিক ৩৫ লক্ষ টাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিধায়ক হওয়ার পাশাপাশি হুমায়ুন পেশায় ব্য়বসায়ী। ঠিকাদারি ব্যবসা রয়েচে তাঁর। রাস্তা-ঘাট তৈরির কন্ট্রাক্ট পান তিনি। এলাকায় তাঁর নামে কিছু জমি রয়েছে বলেও জানেন মানুষজন।
