Malda Child Marriage: তালিকায় দ্বিতীয় মালদহ! কেন এত বাল্যবিবাহ সেখানে? কাদের হাত? এবার মুখ খুলছেন আধিকারিকরাই
Malda Child Marriage: বছরে তাহলে কত পরিমাণ বাল্য বিবাহ হয়। চমকে দেওয়া পরিসংখ্যান সামনে এসেছে শুধুমাত্র মালদা জেলাতেই। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার এই পরিসংখ্যান দিয়ে বলেছেন, বাল্য বিবাহের ক্ষেত্রে মুর্শিদাবাদের পরই মালদহের স্থান। আর সেক্ষেত্রে কোনও রিলিজিয়ন তিনি দেখছেন না বলেও জানিয়ে দেন।

মালদহ: কাজিরা নিয়মিতই নাবালিকাদের বিয়ে দিচ্ছে কোনওরকম সার্টিফিকেট বা কাগজ পত্র না দেখেই। এছাড়া ভুয়ো কাজি সেজেও পাচার চক্রের অনেকেই প্রতারণা করে চলেছে। বিয়ে দেখিয়ে পরে পাচার বা বিক্রি। এমনকি সরকার স্বীকৃত ম্যারেজ অফিসারদেরকেও ধোঁকা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মালদহে ভয়ঙ্কর অভিযোগ। সম্প্রতি একটি পরিসংখ্যান সামনে এসেছে। তার ভিত্তিতে সমাজকল্যাণ দফতরের শিশু ও নারী কল্যাণ সমিতির প্রাক্তন চেয়ারপার্সন চৈতালি সরকার বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তাঁর দাবি, রোজ এক থেকে দুটি করে বাল্যবিবাহ হচ্ছে। মাসে ত্রিশ থেকে চল্লিশ জন। যাদের বেশিরভাগই বিয়ের নামে বিক্রি করা হচ্ছে বা পাচার করা হচ্ছে দেশে বা দেশের বাইরে।সক্রিয় আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্র। যে সংখ্যা আরও বারতে পারে। যার খোঁজ মেলে না। রিপোর্ট হয় না।
কিন্তু সার্টিফিকেট? মালদহের ইংরেজবাজারের ম্যারেজ অফিসার মনসুর আলির দাবি, জাল সার্টিফিকেট বানিয়ে সেটাই জমা দেওয়া হচ্ছে। নাবালিকাদের আসল বয়স লুকিয়ে বেশি বয়স দেখিয়ে জাল সার্টিফিকেট বানানো হচ্ছে। পরে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি কার্যত নিজেই স্বীকার করে নিচ্ছেন এমন ভুল তাঁদের দিয়েও হয়ে যাচ্ছে। জাল ডকুমেন্টস সার্টিফিকেট পরীক্ষা করার উপায় তাঁদের কাছে নেই। কম্পিউটারে জাল সার্টিফিকেট প্রিন্ট করে আনা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা মূলত দেখি আধার কার্ড আপডেট রয়েছে কিনা, ভোটার কার্ড, বার্থ সার্টিফিকেট কিংবা মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট দেখি। কাজিরা তো একদিনেই বিয়ে। সেখানে পেপার দেখার ওদের প্রয়োজন পড়ে না। সরকারের রুলস রয়েছে ১৮-২১! এটা মানা হচ্ছে না।”
বছরে তাহলে কত পরিমাণ বাল্য বিবাহ হয়। চমকে দেওয়া পরিসংখ্যান সামনে এসেছে শুধুমাত্র মালদা জেলাতেই। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার এই পরিসংখ্যান দিয়ে বলেছেন, বাল্য বিবাহের ক্ষেত্রে মুর্শিদাবাদের পরই মালদহের স্থান। আর সেক্ষেত্রে কোনও রিলিজিয়ন তিনি দেখছেন না বলেও জানিয়ে দেন।
পূর্বতন সরকারের আমলে বাল্যবিবাহ নিয়ে বারবার রিপোর্ট করা হয়েছিল বলে জানান চৈতালি। কিন্তু অভিযোগ, প্রশাসনের তরফে তেমন হেলদোল সে সময়ে দেখা যায়নি। তাঁর অভিযোগ, বিগত সরকারের সময়, গত মে মাস পর্যন্ত গ্রামে গ্রামে এই নিয়ে কাজ করে যে রিপোর্ট সামনে এসেছে তা সাংঘাতিক। এই মালদা জেলাতেই মাসে ২০ থেকে ৩০ জন তো রিপোর্ট হয়ই। এছাড়াও আরও ১০ থেকে ২০ জন বাড়বেই। ফলে মাসে ত্রিশ চল্লিশ জন করে বাল্য বিবাহ হচ্ছে। আর এর সঙ্গে যুক্ত আছে আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্র। যারা নাবালিকা ও তাদের পরিবারকে প্রলোভন দেখায়। সমাজ মাধ্যমে বন্ধুত্ব, প্রেম। এরপরেই ট্র্যাপে ফেলে বিয়ে। তারপর পাচার বা বিক্রি। এছাড়া দরিদ্র পরিবারে মোটা টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ঘরের নাবালিকাকে বিয়ের নামে পাচার এমন ঘটনা আকছার হচ্ছে। চৈতালি বলেন, “কিছু ঘটনা আমাদের সামনে আসে, কিছু আসে না। যখন আসে আমরা সেটা নিয়ে কাজ করি। এগুলো আটকাতে আরও বেশি সক্রিয় হতে হবে, আরও বেশি সচেতনতা বাড়াতে হবে।”
বাল্য বিবাহ রুখতে ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ করছে রাজ্য সরকার। শুভেন্দু স্পষ্ট করে দেন, অপরিণত বয়সে স্ত্রী মা হলে সেই স্বামীর বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হবে। তাঁর হুঁশিয়ারি, যাঁরা বিয়ে দেবেন, সেই পুরোহিত বা কাজিদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। আইনের ধারা মেনে রেয়াত পাবেন না অভিভাবকেরাও। গত মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে এই সংক্রান্ত ধারাও মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
