AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Uttam Kumar: নিজে ছিলেন ‘মহানায়ক’, তবুও ছেলেকে কেন সিনেমা করতে দেননি উত্তম?

Uttam Kumar's Son : কেরিয়ারের মধ্যগগনে দাঁড়িয়ে নিজের একমাত্র পুত্র গৌতম চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে তিনি এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যা আজও টলিউডের অন্দরে কান পাতলে শোনা যায়। লাখ লাখ তরুণ যখন মহানায়কের পদাঙ্ক অনুসরণ করে রুপোলি দুনিয়ায় পা রাখার স্বপ্ন দেখতেন, খোদ উত্তম কুমারই তখন চেয়েছিলেন তাঁর নিজের ছেলে যেন অভিনব এই গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে শতহস্ত দূরে থাকেন!

Uttam Kumar: নিজে ছিলেন 'মহানায়ক', তবুও ছেলেকে কেন সিনেমা করতে দেননি উত্তম?
| Updated on: Oct 07, 2026 | 5:02 PM
Share

বাঙালির হৃদস্পন্দনে যিনি চিরকাল ‘মহানায়ক’ হয়ে বেঁচে আছেন, তাঁর এক চিলতে হাসিতে একসময় কেঁপে উঠত হাজারও দর্শকের বুক। সিলভার স্ক্রিনে তাঁর রোম্যান্স ও অভিনয় দক্ষতা নিয়ে আজও চর্চা থামেনি। কিন্তু পর্দার বাইরে বাস্তব জীবনে তিনি ঠিক কেমন বাবা ছিলেন? কেরিয়ারের মধ্যগগনে দাঁড়িয়ে নিজের একমাত্র পুত্র গৌতম চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে তিনি এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যা আজও টলিউডের অন্দরে কান পাতলে শোনা যায়। লাখ লাখ তরুণ যখন মহানায়কের পদাঙ্ক অনুসরণ করে রুপোলি দুনিয়ায় পা রাখার স্বপ্ন দেখতেন, খোদ উত্তম কুমারই তখন চেয়েছিলেন তাঁর নিজের ছেলে যেন অভিনব এই গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে শতহস্ত দূরে থাকেন!

আর পাঁচটা সাধারণ তরুণের মতো পড়াশোনা শেষ করে বাবার মতো রুপোলি দুনিয়ায় পা রাখার স্বপ্ন দেখেছিলেন তরুণ গৌতম চট্টোপাধ্যায়। বাবার মতো তিনিও চেয়েছিলেন অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নিতে। কিন্তু ছেলের মুখে অভিনয়ে আসার ইচ্ছার কথা শুনতেই নাকি মেজাজ হারিয়েছিলেন উত্তম কুমার। সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, “আর যাই হোক, অভিনয় করা যাবে না! সিনেমায় তোমার কোনও ভবিষ্যৎ নেই।” বাবার এই কঠোর ও অনমনীয় ধমক সেদিন শুধু গৌতমকে নয়, অবাক করেছিল পরিজনদেরও।

বাবা হয়েও কেন ছেলের কেরিয়ারের পথে এমন দেওয়াল তুলে দিয়েছিলেন উত্তম? কারণটা লুকিয়ে ছিল তাঁর নিজের জীবনের ফেলে আসা কঠিন সংগ্রামের দিনে। কেরিয়ারের একেবারে শুরুর দিকে অজস্র অপমান, স্টুডিওর দরজায় দিনের পর দিন অপেক্ষা, একের পর এক ছবি ফ্লপ হওয়া এবং ইন্ডাস্ট্রিতে ‘ফ্লপ মাস্টার’ তকমা পাওয়ার যন্ত্রণা খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন তিনি। এমনকী একসময় অভিনয় ছেড়ে বাধ্য হয়ে পোর্ট ট্রাস্টের চাকরি ফিরিয়ে নেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন উত্তম। সেই অনিশ্চয়তা ও চরম আর্থিক-মানসিক সংগ্রামের দিনগুলো নিজের রক্তমাংসের সন্তান পাক, তা কোনওভাবেই চাননি তিনি।

ঘটনাচক্রে গৌতমের কাছে সুযোগ যে একেবারেই আসেনি, এমন নয়। পরিচালক হীরেন নাগ তাঁর ‘অন্ধ অতীত’ ছবির জন্য খোদ গৌতম চট্টোপাধ্যায়কে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কাকতালীয়ভাবে সেই ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছিলেন স্বয়ং উত্তম কুমারও! ফলে পর্দায় রিয়েল লাইফ বাবা-ছেলেকে একসঙ্গে সহ-অভিনেতা হিসেবে দেখার এক সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছিল। পরিচালক থেকে শুরু করে তরুণ গৌতম—সকলেই যখন বেজায় উৎসাহী, ঠিক তখনই বাধ সাধলেন মহানায়ক। তিনি কোনওভাবেই চাননি তাঁর  সন্তান স্টুডিওপাড়ার আলো-আঁধারের এই অনিশ্চিত দুনিয়ায় হারিয়ে যাক।

ভাই তরুণ কুমারের পরবর্তীকালের স্মৃতিচারণা থেকে জানা যায়, ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে থাকা উত্তম নিজেই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। অভিনয়ের অলীক দুনিয়া থেকে ছেলেকে পুরোপুরি দূরে সরিয়ে তিনি একসময় একটি ওষুধের ব্যবসার ব্যবস্থা করে দেন। অভিনেতার মুকুট পরানোর চেয়ে ছেলেকে একজন প্রতিষ্ঠিত ও সুরক্ষিত ব্যবসায়ী হিসেবে দেখতেই বেশি স্বস্তি পেয়েছিলেন তিনি। বর্তমান যুগে যখন ‘নেপোটিজম’ বা স্বজনপোষণ নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে রোজ চর্চা হয়, তখন মহানায়কের এই দূরদর্শী ও সুরক্ষক পিতৃসুলভ সিদ্ধান্ত আজও অনন্য এক নজির হয়ে রয়েছে।

Follow Us