
মালদহ: দুর্ঘটনা নয়, বিচারকদের পাইলট কারে পরিকল্পনা করে হামলা চালানো হয়েছিল। এনআইআর-এর কাছে বয়ান দিয়েছেন পাইলট কারের চালক। মালদহ মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাইলট কারের চালক তারিকুল আলম বলেন, “মোথাবাড়ি থেকে যখন গাড়ি চালিয়ে আসছিলাম, সে সময় পালাচ্ছিলাম। মাথায় বাঁশ পড়ে যায়, আর তখন বুঝতে পারিনি। গাড়ি পড়ে যায়।” বিচারকদের পর এবার তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার কনভয়ে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান ও পুলিশকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিবরণ নেয় NIA।
কনভয়ের জখম আরেক পাইলট কারের চালক রামপ্রসাদ মণ্ডলের সঙ্গে কথা বলতে হাসপাতাল যাবে NIA টিম। ১ এপ্রিল বিকেলের পর থেকে রাত পর্যন্ত মোথাবাড়ি থানার যেসব পুলিশ কর্মীরা ছিলেন, তাঁদের সঙ্গেও কথা বলেছেন তদন্তকারীরা। আজই খসড়া রিপোর্ট তৈরি করে পাঠানো হবে NIA ডিজিকে। তাঁর অনুমোদনের পরেই রিপোর্ট জমা পড়বে সুপ্রিম কোর্টে।
তিন ভাগে ভাগ করে সুপ্রিম কোর্টে মোথাবাড়ির ঘটনার রিপোর্ট দিতে চলেছে এনআইএ। প্রথমে দশ থেকে পনেরো পাতার বিস্তারিত রিপোর্ট থাকবে। তারপর সময় উল্লেখ করে ঘটনাক্রম লেখা থাকবে (টাইমলাইন)। তৃতীয় ভাগে আক্রান্ত বিচারকদের বয়ান লেখা থাকবে।
গত বুধবার কালিয়াচকে এসআইআর কাজের সময়ে কার্যত নিগ্রহের শিকার হন। অভিযোগ, কালিয়াচক-২ ব্লকের হাজার হাজার মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিতে বিক্ষোভকারীরা ব্লক অফিস ঘেরাও করে। জন মহিলা সহ মোট ৭ জন জুডিশিয়াল অফিসারকে প্রায় ৯ ঘণ্টা ব্লক অফিসের ভেতরে আটকে রাখা হয়।
রাত ১টার দিকে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীরা পাথর ছুড়তে শুরু করে। এই সময়েই বিচারকদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পাইলট কারের ওপর হামলা হয়।