
মালদহ: দফায়-দফায় উত্তেজনা। এসআইআর-এ নাম বাদ পড়ায় মালদহের একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ ভয়াবহ আকার নেয় বুধবার। সাত বিচারককে আটকে রাখার অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। পরে মধ্যরাতে তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ও পুলিশের কনভয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনার একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই। যেখানে দেখা যাচ্ছে,পুলিশের গাড়ির সিটে পড়ে রয়েছে কাচ। গোটা ঘটনার রিপোর্ট চাইল কমিশন।
কেন এত বিক্ষোভ?
প্রায় একদিন ছাড়া-ছাড়া সাপ্লিমেন্টার লিস্ট বের করছে নির্বাচন কমিশন। এখনও অবধি প্রায় ২২ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে সূত্রের খবর। তারই প্রতিবাদে ধীরে-ধীরে পরিস্থিতি গরম হয়ে ওঠে মালদহে। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে তাঁরা পথে নামেন। জেলার একাধিক জায়গায় ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয় বুধবার দুপুর থেকেই। এরই মধ্যে খবর আসে মালদহের কালিয়াচক থেকে খবর আসে সাত জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে দুপুর থেকে ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। সেই খবর যায় হাইকোর্টে। যোগাযোগ করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেও। মধ্যরাতে ওই অফিসারদের উদ্ধারে পৌঁছয় পুলিশকর্মীরা। কনভয়ে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁদের। কিন্তু তখনও বিপত্তি।
মধ্যরাতে কী ঘটল?
সংবাদ সংস্থা পিটিআই নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছে। সংশ্লিষ্ট পোস্টটির ভিডিয়োয় দেখা যায়, জুডিশিয়াল অফিসারদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ে পুলিশের কনভয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়। বাঁশ ফেলে গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করা হয়। ইট-পাথর দিয়ে গাড়ির কাচ ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। গাড়ি সিটে পড়েছিল টুকরো-টুকরো কাচ।
ট্রাইব্যুনাল আজ হচ্ছে না
এখানে উল্লেখ্য, বিচারাধীন তালিকায় থাকা যে সব ভোটারের নাম বাদ যাবে, তাঁরা চাইলে ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানাতে পারবেন। তাঁদের বৈধতা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ট্রাইব্যুনাল। আর তা বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করা হবে বলে জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে, আজ সেই কাজ হচ্ছে না। সূত্রের খবর, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের একাধিক প্রশ্নের জবাবে এদিন নিরুত্তর থেকেছে কমিশন। ট্রাইব্যুনালের সদস্যদের একাংশ কার্যত অসন্তোষ প্রকাশ করায় বৈঠক মুলতুবি হয়ে যায়। এমনকী, তীব্র বিরক্তিতে কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ট্রাইবুনাল থেকে সরে যেতে চেয়েছেন বলেও সূত্রের খবর। এই আবহের মধ্যেই জুডিশিয়াল অফিসারদের উপর হামলার ঘটনায় নিতান্তই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, “বিচারকদের আটকে রাখা হয়েছে শুধু তা নয়, বিচারকদের যখন উদ্ধার করে আনা হচ্ছিল সেই সময় রাস্তায় বাঁশ ফেলে কনভয় আটকানোর চেষ্টা করা হয়। মহিলা বিচারকদের শারীরিক ভাবে হেনস্থার চেষ্টা করা হয়েছে। সবটাই তৃণমূলের উস্কানি।” বেলাঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ বলেন,”আমরা এগুলো সমর্থন করি না। তবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে কমিশনই। সব খেলা কমিশন খেলছে। তাই দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে।”