
মালদহ: গত বছর দেড়েক ধরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টার ঘটনা বারবার সামনে এসেছে। বিএসএফের কড়া নজরদারিতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে অনুপ্রবেশের চেষ্টা। আবার ভারতে অনুপ্রবেশের পরও অনেকে ধরা পড়েছে। কিন্তু, কীভাবে অনুপ্রবেশ করছে অনুপ্রবেশকারীরা? কারা সাহায্য করছে তাদের? মালদহে ধৃত বাংলাদেশি মহিলারা সবটাই স্বীকার করলেন। ভারতে অনুপ্রবেশ করতে কাকে কত টাকা দিতে হয়েছে, তাও জানালেন।
সোমবার গুয়াহাটি-বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস থেকে তিন মহিলাকে গ্রেফতার করে রেল পুলিশ। ধৃতদের বাড়ি বাংলাদেশের ময়মনসিং জেলায়। এদিন ট্রেনে ওই তিন মহিলাকে দেখে সন্দেহ হয় দায়িত্বে থাকা রেল পুলিশকর্মীদের। জেরায় তাঁরা দাবি করেন, কাজের খোঁজে সিলেট সীমান্ত পেরিয়ে তাঁরা এদেশে ঢুকেছিলেন। কাজ করতে বেঙ্গালুরু যাচ্ছিলেন। এরপরই গ্রেফতার করা হয় তাঁদের। রেল পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ শুরু করা হয়েছে।
কীভাবে ভারতে ঢুকলেন ওই মহিলারা? জেরায় ধৃত মহিলারা স্বীকার করেছেন, দালালকে টাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে ঢুকেছেন তাঁরা। সীমান্ত পেরতে দালালকে ২৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। মালদহ জিআরপি-র আইসি প্রশান্ত রায় বলেন, “গুয়াহাটি স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে ধৃতরা কাজের জন্য বেঙ্গালুরু যাচ্ছিল। জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, অসম-বাংলাদেশ সীমান্তে পেরিয়ে এসেছে। কাজের খোঁজেই ভারতে ঢুকেছে বলে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে।”
২০২৪ সালের ৫ অগস্ট প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পদ্মাপারের দেশে নির্বাচন হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করেছে। মাঝের এই দেড় বছরে বাংলাদেশ থেকে ভারতের অনুপ্রবেশের চেষ্টার ঘটনা বারবার সামনে এসেছে। অনুপ্রবেশ নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির চাপানউতোরও বেড়েছে। অনুপ্রবেশের জন্য তৃণমূলকে নিশানা করেছে বিজেপি। আবার তৃণমূল সীমান্তসুরক্ষার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে নিশানা করেছে।