AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Rasik Chandra Mondal: ১০৫ বছরের রসিকচন্দ্রের মুক্তি, পশ্চিমবঙ্গের জেল-ইতিহাসের প্রবীণতম বন্দির ঘরে ফেরা

Supreme Court on Rasik Chandra Mondal Released: মালদহের (Malda) বাসিন্দা রসিক চন্দ্র। ১৯৮৮ সালে সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরে ভাই সুরেশ মণ্ডলকে খুনের অভিযোগে উঠেছিল রসিকচন্দ্রের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় ১৯৯৪ সালে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল নিম্ন আদালত। সেইসময় রসিকচন্দ্রের বয়স ছিল ৭৪।

Rasik Chandra Mondal: ১০৫ বছরের রসিকচন্দ্রের মুক্তি, পশ্চিমবঙ্গের জেল-ইতিহাসের প্রবীণতম বন্দির ঘরে ফেরা
প্রতীকী ছবিImage Credit: Meta AI
| Edited By: | Updated on: Aug 23, 2026 | 10:53 AM
Share

মালদহ: শরীর ভেঙেছে, কমেছে দৃষ্টিশক্তি। বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন শতায়ু রসিক চন্দ্র মণ্ডল। বয়সটা তো কম হল না। ১০০ পেরিয়েছেন অনেক আগেই। তবে শৈশব, যৌবন, সংসার…সব কিছুর পর তাঁর জীবনের একটা দীর্ঘ সময় কাটাতে হয়েছে জেলের কুঠুরিতে। অবশেষে বলা ভালো জীবনের প্রায় শেষ প্রান্তে এসে মুক্তির আলো দেখলেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের জেল-ইতিহাসের প্রবীণতম বন্দি ছিলেন রসিক চন্দ্র মণ্ডল (Rasik Chandra Mondal)। ১০৫ বছরে তাঁর কারা-মুক্তি হল।

কেন জেলে যেতে হয়েছিল রসিককে?

মালদহের (Malda) বাসিন্দা রসিক চন্দ্র। ১৯৮৮ সালে সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরে ভাই সুরেশ মণ্ডলকে খুনের অভিযোগে উঠেছিল রসিকচন্দ্রের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় ১৯৯৪ সালে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল নিম্ন আদালত। সেইসময় রসিকচন্দ্রের বয়স ছিল ৭৪। তারপর কেটে গিয়েছে অনেকটা সময়। জেল, আদালত, আবেদন…আইনের দীর্ঘ পথ ধরে এগিয়েছে তাঁর জীবন। সময় চলেছে নিজের নিয়মে। সেই সময়ের স্রোতে একসময়ের কর্মক্ষম মানুষটি ধীরে ধীরে পৌঁছে গিয়েছিলেন শতবর্ষের দোরগোড়ায়।

আদালতে কী ঘটেছে?

নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন রসিকচন্দ্র। ২০১৮ সালে কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর সেই আবেদন খারিজ করে সাজা বহাল রেখেছিল। বয়স ক্রমশ বেড়েছে, ভেঙেছে শরীর। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মানুষের আর্জি পৌঁছয় সুপ্রিম কোর্টে। বয়স ও বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যার কথা তুলে ২০২০ সালে দেশের শীর্ষ আদালতে আবেদন করেন তিনি। সেইসময় তাঁর বয়স প্রায় ১০০ ছুঁইছুঁই।

২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর। ১০৩ বছর বয়সে তাঁকে অন্তর্বর্তী মুক্তি দেয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত। তারপর থেকে জেলের বাইরেই দিন কাটাচ্ছিলেন রসিকচন্দ্র। ২০২৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট সেই মুক্তিকেই চূড়ান্ত করল। বয়স আর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করেই বাকি সাজা মকুব করার সিদ্ধান্ত নেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ। একইসঙ্গে মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করেন তাঁরা।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে, এখন থেকে স্বাধীন নাগরিকের মতো জীবন কাটাতে পারবেন রসিকচন্দ্র। সুপ্রিম নির্দেশের পরে আর কারাগারের জীবনে ফিরতে হবে না ১০৫ বছরের রসিকচন্দ্রকে। জীবনের আর যে ক’টা দিন বাকি, তা আপন খেয়ালেই কাটাতে পারবেন তিনি।

Follow Us