
কালিয়াচক: তোলপাড় চলছে রাজ্য-রাজনীতিতে। জল গিয়ে পৌঁছেছে দিল্লিতেও। ভোটের মুখে ফের একবার জাতীয় খবরের শিরোনামে বাংলা। শিরোনামে কালিয়াচক। কিন্তু কেন এই বিক্ষোভ? অবরোধকারীরা কোথা থেকে এসেছিল? খোঁজ নিতেই টিভি৯ বাংলা পৌঁছে যায় সুজাপুর বিধানসভার কালিয়াচক ১ নম্বর ব্লকের সিলামপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনস্থ মহল্লাদার পাড়ায় ৩ নম্বর বুথে।
ঘটনার পর কেটে গিয়েছে তিনদিন। তারপরেও ক্ষোভের আগুন যেন জ্বলছে এখানকার মানুষের মধ্যে। সিংহভাগ মানুষের অভিযোগ, নাম বাদ দেওয়া হয়েছে ধরে ধরে। চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছেন সকলেই। অন্যদিকে হিংসাত্মক আন্দোলনের জেরে রাজনৈতিক মহলে হিন্দোল উঠতেই তদন্তে নেমে এনআইএ। গ্রেফাতারির তালিকায় এক ঝাঁক নাম। আইএসএফ প্রার্থী থেকে মিম নেতা, কে নেই!
পাড়ায় ঘুরে এবং পঞ্চায়েত অফিসের থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গেল, সুজাপুর বিধানসভার সব থেকে বেশি ভোটার বাদ গিয়েছে এই বুথ থেকে। মোট ৫২২ ভোটার। নাম ‘ডিলিট’ ৪২৭ জনের। তালিকায় নাম রয়েছে মাত্র ৯৫ জনের। এলাকার লোকজন বলছেন, এক একজনের বাড়ি থেকে গড়ে ৩-৪ জনের নাম বাদ গিয়েছে। এখন কি হবে? কোথায় যাবেন? আদৌ ভোট দিতে পারবেন? সরকারি পরিষেবা থেকে বাদ হয়ে যাবে না তো? এই প্রশ্নই যেন এখন ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে এই মহল্লাদার পাড়া বাসিন্দাদের।
এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, বিচারাধীন তালিকায় নাম থাকার পর যতবার শুনানিতে ডাকা হয়েছে, ততবার গিয়েছেন তাঁরা। বাড়ির দলিল থেকে নথি যা যা জমা করার সবকিছু জমা করেছেন। কিন্তু যখন তালিকা বের হল, তখন দেখা গেল গোটা পাড়াই উধাও নামের তালিকা থেকে। এলাকার আর এক বাসিন্দা বলছেন, “আমাদের বাড়িতে ৯ জন সদস্য। ৫ জনের নাম বাদ গিয়েছে। সব ডকুমেন্ট জমা দিয়েছি। তারপরেও এই ছবি। আমরা তো প্রতি বছরই ভোট দিই।”
এলাকার বাসিন্দা গোলাম রব্বানি বলছেন, “হিংয়ারিংয়েও গিয়েছিলাম। আমার আধার কার্ড, ভোটার কার্ড সব আছে। ওগুলো নিয়েই গিয়েছিলাম। কিন্তু নাম কেটে বাদ দিয়ে দিয়েছে। বাড়িতে ৭-৮জন সদস্য। শুধু দুজনের নাম এসেছে।”
অনেকেই ক্যামেরার সামনে প্রকাশ্যে না বললেও প্রতিবাদের নামে যে অবরোধ হয়েছে তাকে সমর্থন করলেন গ্রামের বাসিন্দারা। একজন তো অকপটেই বললেন, “বিডিও অফিসে আটকে রাখা সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু জাতীয় সড়ক অবরোধ না করলে প্রশাসনের হুঁশ ফিরবে না।”