
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ১৬৭ নম্বর কেন্দ্র মানিকতলা কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রটি কলকাতা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। কলকাতা পৌরসংস্থার ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ৩১ এবং ৩২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে এই বিধানসভা গঠিত। ঐতিহাসিকভাবে এটি কলকাতার একটি প্রাচীন ও জনবহুল এলাকা হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিকভাবে এই কেন্দ্রটি দীর্ঘকাল ধরে বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিচরণক্ষেত্র হিসেবে কাজ করেছে, যার মধ্যে সাধন পাণ্ডে এবং ইলা মিত্রের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
মানিকতলায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) আধিপত্য দেখা গিয়েছে। ২০২৪ সালের উপ-নির্বাচনে প্রয়াত নেতা সাধন পাণ্ডের স্ত্রী সুপ্তি পাণ্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে নির্বাচনে লড়েন এবং জয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিজেপির কল্যাণ চৌবে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে লড়েছিলেন সাধন পাণ্ডে। কল্যাণ চৌবেকে হারিয়ে তিনি জয়ী হন। ২০২২ সালে বিধায়ক সাধন পাণ্ডের মৃত্যুর পর আসনটি শূন্য হয়। আইনি জটিলতার কারণে উপনির্বাচন বিলম্বিত হয় এবং অবশেষে ২০২৪ সালে তাঁর স্ত্রী সুপ্তি পাণ্ডে রেকর্ড ব্যবধানে জয়লাভ করেন।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মানিকতলা কেন্দ্রে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন তৃণমূল কংগ্রেস (AITC)-র শ্রেয়া পাণ্ডে। ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-র হয়ে লড়ছেন তাপস রায়। কমিউনিস্ট পার্টি (CPI)-র প্রার্থী মৌসুমী ঘোষ এলং কংগ্রেসের প্রার্থী সুগত রায় চৌধুরী।
মানিকতলা কেন্দ্রে বিভিন্ন জাতি-ধর্মের মানুষের বাস থাকলেও মধ্যবিত্ত বাঙালি ভোটাররাই এখানে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেন। বিগত নির্বাচনগুলোর ধারা অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি এবং পুরোনো কর্মীদের প্রাধান্য এখানে লক্ষ্যণীয়। অন্যদিকে, বিজেপি এই কেন্দ্রে নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।