
আসানসোল: ২০২১। বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের কয়েকদিন পরই ফিরহাদ হাকিম সহ চার নেতাকে কার্যত বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে গিয়েছিল সিবিআই। নিজাম প্যালেসে ছুটে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর সেই মামলায় আদালতে শুনানির সময় উপস্থিত থেকে বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন মলয় ঘটক। তখন তিনি রাজ্যের আইনমন্ত্রী। পাঁচ বছরে বারবার শিরোনামে এসেছেন তিনি। এবার আরও একটা বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হচ্ছে। দিনের শেষে হেরেই গেলেন মলয় ঘটক।
শুধু একজন বিধায়ক বা আইনমন্ত্রী নয়, অন্যতম দাপুটে নেতা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন মলয় ঘটক। তবে কিছুদিন আগেই তাঁর হাত থেকে দফতর নিয়ে নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শোনা যায়, বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার খবর সামনে আসছিল, সেই কারণেই এমন সিদ্ধান্ত। আরও জানা যায়, সাংগঠনিক কাজে মলয়ের অনীহা ভালো চোখে দেখেননি মমতা।
কয়লা পাচার-কাণ্ডে নাম জড়ায় মলয় ঘটকের। একাধিকবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তলব করেছে তাঁকে। হাজিরা দিতে দেখা গিয়েছে। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানোর ঘটনাও সামনে আসে। তবে মলয় বারবার বলেছেন, তিনি কোথাও থেকে কোনও টাকা তোলেননি, দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই।
২০২৩-এ বিচারপতি থাকাকালীন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ১ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে মলয় ঘটককে আদালতে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। নির্দেশ পেয়েই তড়িঘড়ি ছুটে গিয়েছিলেন তিনি। নিম্ন আদালতের বিচারকের বদলির ফাইল কেন আটকে আছে, তা জানতেই আইনমন্ত্রীকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এজলাসে উপস্থিত হয়ে বিচারপতির প্রশ্নের উত্তরও দেন মন্ত্রী।
আসানসোল উত্তর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী মলয় ঘটক ১৩ হাজার ৭০০ ভোটে পরাজিত হয়েছেন। কাউন্টিং সেন্টার থেকে বেরনোর সময় মলয় ঘটককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয় এদিন। ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগান। এই পরাজয়ের কারণ কী, প্রশ্ন করা হলে মলয় ঘটক বলেন, “মানুষ ভোট দিয়েছে। মানুষের রায় মাথা পেতে নিতে হবে। তবে কারণ কী তার পর্যালোচনা করতে হবে আমাদের।”