
বহরমপুর: কয়েক মাস আগেই কলকাতায় মহাসমারোহে বসেছিল লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠের আসর। যোগ দিয়েছিলেন বিজেপির তাবড় তাবড় সব নেতারা। ব্রিগেড সেদিন যেন সেজেছিল গেরুয়া বসনে। এবার বহরমপুর। লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে ৫০ হাজার লোক নিয়ে মুর্শিদাবাদের প্রাণ কেন্দ্রে গীতা পাঠের আসর করে ফেলেছে পদ্ম শিবির। এদিকে এবারের লোকসভা ভোটে মুর্শিদাবাদের একাধিক কেন্দ্রে রয়েছে হেভিওয়েট সব প্রার্থী। বহরমপুর থেকে জোর টক্কর হতে চলেছে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী ও তৃণমূলের তারকা প্রার্থী ইউসুফ পাঠানের মধ্যে। মুর্শিদাবাদকে বিজেপির মতোই পাখির চোখ করেছে আইএসএফও। অন্যদিকে মুর্শিদাবাদ আসন থেকেই লড়তে চলেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। কিন্তু, ভোটের মুখে গীতা পাঠ নিয়ে কী বলছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি? অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলছেন, “কী বলব আর। আমি তো আর মানা করতে পারি না।” খোঁচা দিতে ছাড়েননি তিনি।
সুর চড়িয়ে অধীর বলেন, “গীতা পাঠের জন্য নির্বাচনের মরসুম বেছে নেওয়ার পিছনে রাজনৈতিক কারণ আছে। এটার মধ্য দিয়ে কী ভাল চাইছে জানি না। বহরমপুরে ওদের গীতা পাঠের অনুমতি কে দিল জানি না। আমাদের তো একটা মিটিং করতে দেওয়া হয় না। এমপি লটের কাজ সেটা করতে দেওয়া হয় না। আমরা যদি কোনও জায়গায় কাজ করি তাহলে সেখানে আমাদের নাম ঢেকে দেওয়া হয়। কিন্তু নির্বাচনের সময় হঠাৎ করে গীতা পাঠের মাধ্যমে কি বার্তা দিতে চাইছে? এটা কিন্তু আমাদের সকলকে বুঝতে হবে।” পাল্টা বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি শাখারভ সরকার বলেন, “গীতা পাঠের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। আমি অধীরবাবুকে আমন্ত্রণ করছি। উনি নিজেও আসুন। গীতা পাঠ সবার। গীতা পাঠ সব রাজনৈতিক দলের। অফিসিয়ালি ওনাকে কার্ড দিয়ে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে। কিন্তু, উনি আসবেন না। উনি ভাবছেন গীতা পাঠে গেলে ওনার কিছু ভোট কমে যাবে।” যদিও অধীর আবার বলছেন, জানি না কে আমন্ত্রণ করেছেন। আমি কেন যাব। আমার বাড়িতে গীতা আছে। সে গীতা পাঠ আমি বাড়িতে করি।
প্রসঙ্গত, এদিন বহরমপুর শহরের ফরাসডাঙ্গা লাগোয়া এলাকায় ৫০ হাজার কণ্ঠে গীতা পাঠের আয়োজন করা হয় চৈতন্যদেবের জন্মতিথি উপলক্ষে। উদ্যোক্তা স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ। সূত্রের খবর, ব্রিগ্রেডের গীতা পাঠের অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন এই প্রদীপ্তানন্দ। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করা হয়েছে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ অনেক বিজেপি নেতাকেই।