
বহরমপুর: ‘উনি যে মাত্রায় ভোট পেয়েছেন তার থেকে বেশি ভোট পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থীরা ভোটের সময় পেয়ে থাকেন।’ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারকে এ ভাষাতেই খোঁচা দিলেন তাঁরই দলের সতীর্থ। শুধু তাই নয়, বিপর্যয়ের দায় মাথায় নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ জয়ন্ত দাসের। একইসঙ্গে দলের প্রদেশ মুখপাত্রের পদও ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার দুপুরে বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সেখানেই দলের হার নিয়ে বলতে গিয়ে জয়ন্ত দাস বলেন, রাজ্যে কংগ্রেসের ভরাডুবি হয়েছে। ২৯৪ বিধানসভা কেন্দ্রে লড়াই করতে গিয়ে লজ্জাজনক ভাবে হার হয়েছে। দু’টি মাত্র বিধানসভা কেন্দ্রের জয় লাভ করেছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার শ্রীরামপুর কেন্দ্রে ২৮৮৪ এর ভোট পেয়েছেন। এরপরই খানিক কটাক্ষের সুরেই জয়ন্ত বলেন, “পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদের প্রার্থীরাও এর থেকে বেশি ভোট পায়। প্রার্থী হওয়ার কারণে কোথাও প্রচারেও যেতে পারেননি তিনি। এই ভরাডুবির দায় আমাদের সকলের। আমি যে পদে এসেছিলাম সেই পদে পৌঁছানোর পিছনে কৃতিত্ব ছিল অধীর চৌধুরীর। কিন্তু তাঁকে না জানিয়ে আমি এই পদত্যাগ করছি।”
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে জানান জয়ন্ত। কিন্তু শুভঙ্কর সেটা গ্রহণ করেন কিনা তা নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। যদিও জয়ন্ত অত-শত ভাবতে রাজি নন। তিনি বলছেন, “পদত্যাগ গ্রহণ করবেন না করবেন না সেটা প্রদেশ সভাপতির বিষয়, তবে আমি পাঠিয়ে দিয়েছি।” যদিও সূত্র মারফত খবর, শুভঙ্কর সরকার আপাতত পদত্যাগপত্র গ্রহণ করছেন না, কারণ জয়ন্ত দাস কেন্দ্রীয় নেতার হস্তক্ষেপে প্রদেশে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছিলেন।