
বড়ঞা: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। চলতি বছরের মে মাসে সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। কিন্তু, বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার সংস্রব এড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁকে তৃণমূলের কোনও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে ডাকা হবে না। বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে সেকথা সগর্বে ঘোষণাও করছেন তৃণমূল নেতা। সেই মঞ্চে তখন উপস্থিত রয়েছেন বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান।
সোমবার বড়ঞা ব্লকের ডাকবাংলা কৃষক বাজার চত্বরে আয়োজন করা হয়েছিল বিজয়া সম্মিলনী। সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন ইউসুফ পাঠান। বিজয়া সম্মিলনীতে জেলার এক ঝাঁক নেতা থাকলেও দেখা যায়নি বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে। ছিলেন না স্থানীয় ব্লক সভাপতিও। ওই মঞ্চ থেকেই তৃণমূল নেতা মাহে আলম বলেন, রাজ্য নেতৃত্ব ও জেলা নেতৃত্বের সম্পূর্ণ নিষেধ রয়েছে এখানকার বিধায়ককে দলের কোনও সাংগঠনিক কাজে রাখা যাবে না। এই বার্তা সরাসরি উপরমহলের বলে জানান তিনি।
বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান রবিউল আলম চৌধুরীকে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনিও একই কথা জানান। তিনি বলেন, “বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে দলের সমস্ত কাজ থেকে দূরে রাখতে বলেছে রাজ্য নেতৃত্ব। তবে এর কী কারণ, তা আমাদের জানা নেই। আর এই কারণেই এই মঞ্চে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।” যদিও গোষ্ঠীকোন্দলের বিষয় উড়িয়ে দিয়েছেন রবিউল আলম চৌধুরী।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল জীবনকৃষ্ণ সাহাকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। অভিযোগ, কান্দিতে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চলাকালীন বাড়ির পাশে পুকুরে দুটি মোবাইল ছুড়ে ফেলে দেন তিনি। তা খুঁজতে বেগ পেতে হয় আধিকারিকদের। চলতি বছরের মে মাসে তিনি জামিন পেয়েছেন। বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে তাঁকে নিয়ে দলের এই সিদ্ধান্তের কথা শুনে বড়ঞার বিধায়ক বলেন, “আমি খুব হতাশ। কেন এরকম মন্তব্য করেছেন, উনি ভাল বলতে পারবেন। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক। আমি বিধানসভায় যাবতীয় কাজ করছি। আমার কাছে কিন্তু এরকম কোনও নির্দেশিকা নেই।”