Nadia: ‘কেউ নেবে না, কেউ নেবে না…’, যদি একটা অর্ডার আসে! সব জেনেও রোজ সকালে রঙ-তুলি নিয়ে বসেন রেবা
Durga Puja Tradirion: ঐতিহ্যের সেই শিল্পকে আঁকড়ে ধরে আজও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ঘূর্ণির প্রায় ৮০ ছুঁইছুঁই রেবা পাল। নদিয়ায় হাতে আঁকা পট বা চালা চিত্রের শেষ শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম তিনি। দুর্গাপুজোর সময় কোনও বরাত আসবে, এই আশায় প্রতিদিন নিয়ম করে রং-তুলি নিয়ে বসে পড়েন নিজের কাজে।

নদিয়া: একসময় দুর্গাপ্রতিমার মাথার উপরে থাকত হাতে আঁকা থাকত বিভিন্ন দেবদেবীর ছবি। প্রতিমার সাবেকি সাজ, পোশাক আর অলঙ্কারের সঙ্গে সেই হাতে আঁকা ছবিই ছিল দুর্গা পূজার (Durga Puja) এক অন্য়তম ঐতিহ্য। ‘পট আঁকা’ বা ‘চালা চিত্র’ বলেই উল্লেখ করা হয় সেগুলিকে। এক সময় দুর্গাপুজোর মরশুমে ব্যাপক চাহিদা ছিল সেই শিল্পীদের। কিন্তু সময় বদলেছে। ম্লান হচ্ছে সেই শিল্প।
ডিজিটাল যুগে কম্পিউটারে তৈরি করা নকশা তুলনামূলক কম খরচে তৈরি করা যায়। সময়ও লাগে অনেক কম। হাতে আঁকা চালা চিত্রের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছেন এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীরা। কমেছে চাহিদা, বন্ধ হয়েছে বহু শিল্পীর কাজ। বিলুপ্তির পথে এগিয়ে চলেছে বাংলার এই প্রাচীন শিল্প।
তবুও ঐতিহ্যের সেই শিল্পকে আঁকড়ে ধরে আজও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ঘূর্ণির প্রায় ৮০ ছুঁইছুঁই রেবা পাল। নদিয়ায় হাতে আঁকা পট বা চালা চিত্রের শেষ শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম তিনি। দুর্গাপুজোর সময় কোনও বরাত আসবে, এই আশায় প্রতিদিন নিয়ম করে রং-তুলি নিয়ে বসে পড়েন নিজের কাজে। প্রশ্ন করতে বলেন, ‘কেউ নেবে না, কেউ নেবে না। এখন সবাই কম্পিউটারে করায়।’
বিক্রি নেই, চাহিদাও প্রায় নেই। তবুও থামেননি রেবা পাল। স্বামীর হাত ধরে যে শিল্পের শিক্ষা নিয়েছিলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেই শিল্প ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার সংকল্প তাঁর।
হয়ত আজ কম্পিউটারের যুগে হাতে আঁকা চালা চিত্রের বাজার নেই। কিন্তু রেবা পালের রং-তুলিতে এখনও বেঁচে আছে নদিয়ার এক হারিয়ে যেতে বসা শিল্পের ইতিহাস।
