
নদিয়া : ভোট বঙ্গে ফের রক্তাক্ত ভোট কর্মী। মুখ্যমন্ত্রীর বিজ্ঞাপন নিয়ে আপত্তি তুলতেই মারধরের অভিযোগ। বিডিও অফিসের কর্মীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছেন আক্রান্ত ভোটকর্মী। নদিয়ার রানাঘাট দেবনাথ বয়েজ ইনস্টিটিউটের ঘটনা। আজ সকালে প্রশিক্ষণ চলাকালীন হঠাৎ উত্তেজনা ছড়ায়। নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলতেই ওই ভোট কর্মীকে হুমকির মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
কী ঘটেছে ?
নির্বাচনী বিধি মেনে কমিশনের নির্দেশে গোটা রাজ্যজুড়ে ভোট কর্মীদের প্রশিক্ষণ চলছে। রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম বিধানসভার অন্তর্গত রানাঘাট দেবনাথ বয়েজ ইনস্টিটিউটেও প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ চলছে। আজ সকাল থেকেই ওই ইনস্টিটিউটে ভোট কর্মীদের প্রশিক্ষণ চলছিল। সেখানে অন্যান্য ভোট কর্মীদের মতোই প্রশিক্ষণ নিতে গিয়েছিলেন সৈকত চট্টোপাধ্যায় নামে এক শিক্ষক তথা ভোট কর্মী। তাঁর অভিযোগ, প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার সময় স্ক্রিনে বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছিল। ঠিক তখনই সৈকত চট্টোপাধ্যায় সহ আরও বেশ কয়েকজন ভোট কর্মী প্রতিবাদ করেন। প্রশ্ন তোলেন নির্বাচনী বিধি চলাকালীন এইভাবে বিজ্ঞাপন দেখানো সম্পূর্ণ বেআইনি। নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তাঁরা। প্রতিবাদও করেন।
সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, যখন তাঁরা প্রতিবাদ করছিলেন, ঠিক সেইসময় বিডিও অফিসের এক ব্যক্তি তাঁকে হুমকি দেয়।অভিযোগ এরপরই আচমকা কয়েকজন তাঁর উপর চড়াও হয়। তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোরও হমকি দেওয়া হয় হলে অভিযোগ। বিডিও-র নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সৈকত চট্টোপাধ্যায়।
সৈকত চট্টোপাধ্যায় বলেন, “প্রশাসনের তরফে আমি আহত হয়েছি। বিডিও অফিসের লোকেরা আমাকে ফেলে পিটিয়েছে। বিডিওর নেতৃত্বে বলা হয়েছে আমাকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হবে। প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার আগে সাদা পর্দায় মুখ্যমন্ত্রীর বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছিল। আমি ও আরও অনেকে প্রতিবাদ করি। সেইসময় একজন এসে হম্বিতম্বি করে। পরে আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রতিবাদ করায় মারধর করা হয়।”
মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিডিও। হাঁসখালির বিডিও সায়ন্তন বসু বলেন, “আমাদের কিছু কর্মীর সঙ্গে ওনার একটা বাকবিতণ্ডা হয়েছে। ওনাকে বোঝানো হয়েছে। বোঝানোর পর যখন আবার প্রশিক্ষণ শুরু হয়, তখন বোধহয় আবার ঝামেলা হয়। বচসা আমাদের কর্মীদের সঙ্গেই হয়েছে।”
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন ভোট কর্মীরা। প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে বহিরাগতরা এসে এইভাবে চড়াও হতে পারে একজন ভোটকর্মীর উপর? পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার। তাঁর অভিযোগ,”গোটা রাজ্যজুড়ে তৃণমূল সন্ত্রাসের আবহাও তৈরি করেছে। থানার ওসি, আইসি, বিডিও, এসডিওরা সম্পূর্ণ তৃণমূলের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল। তৃণমূলের বিডিও একজন ক্রিমিনালের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।”