SIR in Bengal: ‘সন্ধ্যায় বলেছিল আমাকে গলায় দড়ি দিতে হবে’, সকালেই ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত বিচারাধীন ভোটারের
SIR Panic: পরিবারের সদস্যদের দাবি, কীভাবে এই সমস্যার সমাধান হবে, তাঁর নাম কেন বিচারাধীন রয়েছে, তা নিয়ে দিনরাত দুশ্চিন্তা করতেন এসমাইল। এই বিষয়ে তিনি বারবার পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন। কিন্তু কোনও সুরাহা না হাওয়ায় মানসিক অবসাদ গ্রাস করছিল তাঁকে।

বাদুড়িয়া: ঘোষণা হয়ে গিয়েছে ভোটের দিনক্ষণ। কিন্তু এখনও শেষ হয়নি এসআইআর প্রক্রিয়া। এরইমধ্যে বিচারাধীন ভোটারদের নিয়ে চাপানউতোর চলছে। জোরকদমে চলছে ঝাড়াই-বাছাইয়ের কাজ। এরইমধ্যে আত্মহত্যা বাদুড়িয়ার বিচারাধীন ভোটারের। তা নিয়েই নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
ভোটার তালিকায় নিজের নাম ‘বিচারাধীন’ দেখার পর থেকেই তীব্র দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার এসমাইল মোল্লা (৩৬)। বাড়ি ১৩১ নম্বর বুথে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে জানাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। নাগরিকত্ব বা ভোটাধিকার হারানো নিয়ে তাঁর মনে গভীর আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেছেন প্রতিবেশীরা। কিন্তু তার পরিণতিতে যে তিনি এত বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবেন তা ভাবতে পারছেন না কেউই।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, কীভাবে এই সমস্যার সমাধান হবে, তাঁর নাম কেন বিচারাধীন রয়েছে, তা নিয়ে দিনরাত দুশ্চিন্তা করতেন এসমাইল। এই বিষয়ে তিনি বারবার পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন। কিন্তু কোনও সুরাহা না হাওয়ায় মানসিক অবসাদ গ্রাস করছিল তাঁকে। বৃহস্পতিবার সকালেই তিনি আত্মঘাতী হন। উদ্ধার হয় ঝুলন্ত দেহ। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে বাদুড়িয়া রুদ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এসমাইলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া এলাকায়। পরিবারের সদস্যরা বারবার অভিযোগ তুলছেন কমিশনের দিকেই। এই ঘটনায় প্রশাসনিক স্তরে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এলাকার বাসিন্দা আরমান আলি কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কাল সন্ধ্যাবেলা বলেছিল আমার নাম যদি না আসে তাহলে আমাকে গলায় দড়ি দিয়ে মরতে হবে। আজকে সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ বাড়ির সকলের আড়ালে এই কাণ্ড ঘটে গিয়েছে। আমরা এর বিচার চাই। ও তো দেশের লোক। কেন ওর নাম বাদ যাবে? এটা কমিশনের ভুলেই হচ্ছে।”
