Nepal Flash Flood-Arambag Tourist: ‘মায়ের মুখটা দেখতে চাই শুধু’, নেপালের হড়পা বানে ঘুম উড়েছে আরামবাগের
Nepal Flood Update: জানা গিয়েছে, নেপালে নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে পর্যটকদের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে আরামবাগে থাকা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। পরিবারের দাবি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা না করে, দ্রুত পর্যটকদের নিরাপদে আরামবাগে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক।

আরামবাগ: নেপালে ভয়ঙ্কর বিপর্যয়। সেখানে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন অন্তত ১০৫ জন ভারতীয় সহ সাড়ে তিনশোরও বেশি পর্যটক। নেপালে বেড়াতে গিয়ে আটকে পড়েছেন আরামবাগের পর্যটক বোঝাই একটি বাস-ও।
জানা গিয়েছে, WB 37C 9999 নম্বরের একটি পর্যটক বোঝাই বাস আটকে পড়েছে নেপালে। ওই বাসে রয়েছেন আরামবাগের ৬৫ জনের একটি পর্যটকের দল। কী অবস্থা তাদের? বর্তমানে বাসটি বিপর্যয়স্থল থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে নেপালের চেতন পার্কে রয়েছে।
গত ২৪ অগস্ট আরামবাগ থেকে ৬৫ জন পর্যটকের দল নেপালের উদ্দেশে রওনা দেয়। তবে আজ নেপালে হড়পা বান ও তার জেরে বিপর্যয়ের কারণে তাঁদের যাত্রাপথে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সকাল থেকে পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করতে পারছিলেন না পর্যটকদের সঙ্গে। বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পর প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় চরম উদ্বেগে ছিলেন তাঁরা। পরে সন্ধ্যায় কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হলেও, এখনও পুরোপুরি দুশ্চিন্তা কাটেনি পরিবারের।
জানা গিয়েছে, নেপালে নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে পর্যটকদের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে আরামবাগে থাকা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। পরিবারের দাবি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা না করে, দ্রুত পর্যটকদের নিরাপদে আরামবাগে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক।
এক পর্যটকের ছেলে সৌভাগ্য দত্ত বলেন, “গত ২৪ তারিখ আমার মা, মামাশ্বশুর ও পাড়ার আরও অনেকে মিলে যান। হঠাৎ আজ দেড়টা-দুটো নাগাদ সংবাদমাধ্যমে নেপালের হড়পা বানের কথা জানতে পারি। মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। শেষবার কথা হয়েছে সকাল আটটা-সাড়ে আটটা নাগাদ। খুব টেনশনে আমরা। খাওয়া-দাওয়া প্রায় উঠে গিয়েছে। মা-ই একমাত্র আছেন আমাদের। শেষ পর্যন্ত কন্ডাক্টরের নম্বর পেয়েছি। তার মারফত কথা হয়েছে মায়ের সঙ্গে। এখনও সুস্থ আছেন। মায়ের মুখটা দেখতে চাই শুধু। মা হয়তো বুঝতে পারছে না। কেউ হয়তো বুঝিয়েছে যে কাল হড়পা বান কমে যাবে, তারপর বেড়াতে যাওয়া হবে। সবাই যাতে ফিরে আসে দ্রুত, সেটাই চাইছি। আমার মা যেমন আমার কাছে দামি, বাকিদের কাছে তাদের পরিজনরাও দামি। প্রত্যেকটা লোক ফিরে আসুক তাদের পরিবারের কাছে।”
এদিকে, বাসটির মালিক অরূপ গুহও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি চান, যত দ্রুত সম্ভব বাসটি নিয়ে পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হোক দেশে। তিনি বলেন, “চেতন পার্কে গাড়ি আটকে আছে। আমি গাড়ির স্টাফদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আমি বলেছি গাড়ি ব্যাক করাতে, এজেন্ট বলছে দেখছি। পর্যটকরাও বিশ্বাস করতে চাইছেন না যে নেপালে এমন কিছু হয়েছে। খুব চিন্তায় আছি।”
