
বসিরহাট: দুয়ারে ভোটে, পুরোদমে প্রচারের কাজেও ঝাঁপিয়ে পড়েছেন প্রার্থীরা। কিন্তু এখনও কী ক্ষোভের আগুন নিভবে না তৃণমূলে? তৃণমূল ছাড়লেন বাদুড়িয়ার বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিম। এবার তাঁকে আর দাঁড় করায়নি দল। এর আগেও টিভি ৯ বাংলায় টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। এবার তৃণমূল ছাড়ার ঘোষণা করলেন একেবারে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে। দলের বাড়তে থাকা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, যড়যন্ত্রের অভিযোগে সরব হয়েছেন তিনি। ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। তাঁর সফা কথা, ২০২১ সাল দলের কঠিন সময়ে যারা দল করেছে তাদেরকে টিকিট দেওয়া হয়নি। উল্টে যাঁরা দলের বিরোধিতা করেছে তাঁদের টিকিট দেওয়া হয়েছে। এই সব বিষয় নিয়ে দলের উপরতলার বিরুদ্ধে তোপের পর তোপ দেগেছেন নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে।
দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তীব্র অভিমানের সঙ্গে তিনি লিখছেন, ‘আমি সবসময় সত্য, ন্যায় এবং আদর্শের পথে চলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে জানাতে বাধ্য হচ্ছি, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আদর্শ ও বাস্তবতার মধ্যে যে গভীর ফারাক তৈরি হয়েছে, তা আর উপেক্ষা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। বারবার অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ না হওয়ায় আমি মানসিকভাবে অত্যন্ত ব্যথিত।’ এরপরই তাঁর সংযোজন, ‘আমি কখনও আপোসের রাজনীতি করিনি, আর ভবিষ্যতেও করব না। আমার পিতার আদর্শ আমাকে শিখিয়েছে—অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয়, সত্যের পথেই অটল থাকা। সেই কারণেই আমি তৃণমূল কংগ্রেসের সকল পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করলাম । আমি মানুষের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব—এটাই আমার অঙ্গীকার।’
এদিকে এদিনই আবার বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সন্দেশখালিতে আসছেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আগেই আচমকা আব্দুর রহিমের দল ছাড়ার ঘোষণা নিয়ে বসিরহাটের রাজনৈতিক আঙিনায় জোরদার চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। এবার তাঁর পরিবর্তে দলের হয়ে লড়াইয়ের ময়দানে বুরহানুল মুকাদ্দিম লিটন। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের রাজ্য সভাপতিকেও চিঠি লিখে নিজের দলত্যাগের কথা জানিয়ে দিয়েছেন আব্দুর রহিম সেই চিঠিও পোস্ট করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রসঙ্গত এবার বসিরহাটে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় ছিল বড় চমক। ৭ আসনে ৬টিতেই বাদ পড়েছেন বর্তমান বিধায়করা।