Bangaon hotel: কাগজ দেখতে চাইলেন দমকল অফিসার, দালালের ফোন ধরিয়ে দিতে চাইলেন হোটেল মালিক
Bangaon hotel fire safety inspection: পরবর্তীতে ওই হোটেল মালিক সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দাবি করেন, দালাল ছাড়া কোনও কাগজপত্র হয় না। দালালরা টাকা নিয়ে কাজ করে। সবকিছুই দালাল মারফত হয়, তাই দালালের ফোন ধরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন তিনি।

বনগাঁ: অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে হোটেল পরিদর্শনে এসেছেন দমকল আধিকারিকরা। দমকল অফিসার কাগজ দেখছেন। আচমকা তাঁর দিকে নিজের ফোন বাড়িয়ে দিলেন হোটেল মালিক। জানালেন, দালাল তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চান। আর তা শুনেই হোটেল মালিককে ধমক দিলেন দমকল অফিসার। ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর। এই নিয়ে শোরগোল পড়তেই হোটেল মালিকের সাফাই, দালাল ছাড়া কোনও কাজ হয় না।
বীরভূমের তারাপীঠ ও কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর জেলায় জেলায় হোটেলগুলিতে পরিদর্শন করছে দমকল। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন দমকল আধিকারিকরা। মঙ্গলবার বনগাঁ শহরের বিভিন্ন গেস্ট হাউস, হোটেল সহ বিভিন্ন দোকানের অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে পরিদর্শনে যান বনগাঁ দমকলের আধিকারিকরা। অগ্নি নির্বাপণের জন্য কী কী ব্যবস্থা রয়েছে, আপদকালীন পরিস্থিতিতে দুর্গতদের উদ্ধারের জন্য কী কী ব্যবস্থা রয়েছে এবং নিরাপত্তাজনিত সমস্ত বিষয় মানা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখেন দমকলের আধিকারিকরা।
বিভিন্ন জায়গায় ভিজিট করতে করতে বাটার মোড় এলাকায় চিত্ত সাহা নামে এক ব্যক্তির হোটেল পরিদর্শনে যান দমকলের আধিকারিকরা। কাগজ চাইতেই আধিকারিককে দালালের ফোন ধরিয়ে দিতে চান হোটেল মালিক। দালালের ফোনের কথা শুনে বেজায় চটে যান দমকল আধিকারিক। হোটেল মালিককে ধমক দিতে থাকেন। রীতিমতো কড়া মেজাজে দমকল অফিসার বলেন, “আপনি দালালের ফোন আমাকে দিচ্ছেন কেন? আপনি কী মনে করছেন? আমি এখানে পরিদর্শনে এসেছি বলে আপনি কী ভেবেছেন? আপনি একটা ওসিকে দালালের ফোন ধরাচ্ছেন।” তখন হোটেল মালিক বারবার বলেন, “ভুল হয়ে গিয়েছে।”
পরবর্তীতে ওই হোটেল মালিক সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দাবি করেন, দালাল ছাড়া কোনও কাগজপত্র হয় না। দালালরা টাকা নিয়ে কাজ করে। সবকিছুই দালাল মারফত হয়, তাই দালালের ফোন ধরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। তাঁর হোটেল অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র রিনিউয়াল হয়নি বলে জানালেন।
অন্যদিকে, বনগাঁ দমকলের স্টেশন অফিসার শুভময় মোদক বলেন, “উনি কেন কার সঙ্গে কথা বলতে চাইলেন জানি না। আমাদের সঙ্গে দালালের কথা হওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। আমরা কেন দালালের সঙ্গে কথা বলতে যাব? এটা সরকারের কাজ। আমাদের দায়িত্ব। কেন উনি এটা বলতে চাইলেন জানি না।” হোটেলগুলির অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, “যেসব জায়গায় পরিদর্শন করলাম, বেশিরভাগ জায়গায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিক রয়েছে। কয়েকটা জায়গায় সমস্যা রয়েছে। তাদের ঠিক করতে বললাম।”
